মুহাম্মদ কামরুজ্জামান লামা, (বান্দরবান)

  ৯ ঘণ্টা আগে

একই পরিবারের ৫ জন নিহত, পানির নিচে লামা পৌরশহর

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভয়াবহ দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। আজিজনগর ইউনিয়নে পাহাড়ধসে একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় এক নারী ইউপি সদস্য আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লামা পৌরশহরের প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। এক নারী ইউপি সদস্য মাটিচাপায় আহত হয়ে চমেকে ভর্তি হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড মিশনপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতভর টানা বৃষ্টির পর হঠাৎ পাহাড়ের ঢালু ধসে পাশের একটি বসতঘরের উপর পড়ে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়েছিলেন। মুহূর্তেই ঘরটি মাটিচাপায় পড়ে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর ধসেপড়া মাটির স্তূপের নিচ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশীরা জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকলেও এত বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেননি। এর আগে গত কদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালুতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহতদের পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলার আর কোথাও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লামা পৌরশহর ৯৫% কয়েক ফুট পানিতে ডুবে আছে। লামা খাদ্য গুদাম, হাসপাতাল ক্যাম্পাস, কৃষি অফিস, সমাজসেবা, পশুসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়, লামা থানা চত্বর, ট্রাফিক পুলিশ ব্যারাক, পাবলিক হেল্থ ক্যাম্পাস, নুনারবিল মডেল প্রাইমারি স্কুল, পৌরশহরে তিন শতাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ২-৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলের পানি প্রতি মিনিটে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।

এই বিষয়ে লামা উপজেলা প্রশাসক নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন জানান, শহর অভ্যন্তরে ও আশপাশে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া পরিবারদের মাঝে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ‘গত চার দিন ধরে আমি নিজেই সরেজমিন গিয়ে পৌরশহর ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের কাছাকাছি আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিয়েছি।’ ইউএনও মঈন উদ্দিন আরো বলেন, দুর্যোগ পরিস্থিতি মনিটরিং করে সার্বক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এদিকে পানিবন্দি মানুষের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিতে রাজনৈতি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে বিএনপি, জামায়াত, এনজিও সংস্থা একতা এনজেড খিচুড়ি রান্না করে দুর্যোগকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দেখা গেছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ কমিটির সদস্যরা সার্বিকভাবে সক্রিয় রয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়