reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

বাংলাদেশ বিমান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে প্রোপাগান্ডা

গত কিছুদিন ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর টিকেটের দাম না কমানো পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধের বিষয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বিভ্রান্ত করার জন্য একটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা প্রচার করছে, যা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর টিকেটের দামের সাথে প্রিয় প্রবাসীদের দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর কোনোরূপ সম্পর্ক নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণণ্ন করতে কোনো যুক্তিযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়া মনগড়া তথ্য শেয়ারের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পনামাফিক প্রোপাগান্ডা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, বিগত ২৬ জানুয়ারি অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) একটি সংবাদ সম্মেলন করে এয়ার টিকেটের দাম কমানোর পাশাপাশি যাত্রীর নাম, পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়া বাল্ক টিকেট বিক্রি ও মজুদদারি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কিছু প্রিন্ট মিডিয়াতে খবর প্রকাশিত হয় যে, “বিমান টিকিটের মজুদদারি বন্ধের দাবি আটাবের”। এরপরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মহল বিভিন্ন নামে-বেনামে ফেইসবুক প্রোফাইল এবং পেইজের মাধ্যমে আলোচ্য প্রোপাগান্ডাটি ছড়াতে থাকে। অথচ উক্ত প্রেস কনফারেন্সে আটাবের সম্মানিত সভাপতি বা সদস্যগণ কোথাও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বা বিমানের কথা উল্লেখ করেননি বরং এয়ার টিকেট বা এয়ারলাইন্স-এর কথাই আটাব থেকে উল্লেখ করা হয়।

আটাবের সভাপতি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে চলমান অন্যতম বড় সমস্যা এয়ার টিকেটের অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি। এই মূল্য বৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারণ নামবিহীন গ্রুপ টিকেট বুকিং।

তিনি বলেন, মূলত মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইটের তারিখের অনেক আগেই আসন বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অধিক মুনাফার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করে। সুস্পষ্টভাবেই, সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত এয়ারলাইন্স শব্দের পরিবর্তে “বিমান” শব্দটি ব্যবহার করার ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত ‘বিমান’ শব্দটি ব্যবহারের পরিবর্তে “এয়ার টিকেট বা এয়ারলাইন্স” শব্দ ব্যবহারে বিভিন্ন প্রেস ও পাবলিক মিডিয়া আরও মনোযোগী হবে বলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশা করে।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ করতে চায় যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর বিদ্যমান বুকিং এবং টিকিটিং পলিসি অনুযায়ী টিকেট বুকিং বা রিজার্ভেশন সিস্টেমে মধ্যপ্রাচ্যগামী বা শ্রমিক ভিসায় প্রবাসগামী সম্মানিত রেমিট্যান্স যোদ্ধা বা অন্যান্য যাত্রীদের ক্ষেত্রে কোনও সেক্টরে নাম কিংবা নামবিহীন গ্রুপবুকিং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অনুমোদন করে না। বিমানের বিদ্যমান টিকেট বুকিং বা রিজার্ভেশন সিস্টেমে যাত্রীদের নাম এবং পাসপোর্ট-এর বিস্তারিত তথ্যাদি, যোগাযোগের তথ্যাদি (মোবাইল নং, ইমেইল, প্রভৃতি) ছাড়া টিকেট বুকিং/ টিকেট বিক্রয়ের কোন সুযোগ বা অবকাশ নেই।

বিমানের টিকেটের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সকল নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করেই টিকেটের দাম নির্ধারণ করা হয়। বিগত ছয় মাসের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের যেমন জেদ্দা, রিয়াদ, মদিনা সেক্টরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ভাড়া বাড়েনি, বরং কিছু কিছু সেক্টরে চাহিদা থাকে সত্ত্বেও যাত্রীদের সুবিধার্থে ভাড়া কমানো হয়েছে। বিমানের ওয়েবসাইট, বিমান মোবাইল অ্যাপে সব টিকেট সবার জন্য উন্মুক্ত, যে কেউ বিমানের ওয়েবসাইট, বিমানের মোবাইল অ্যাপ, বিমান সেলস্ সেন্টার, বিমান অনুমোদিত ট্রেভেল এজেন্ট এবং বিমান কল সেন্টার থেকে টিকেট ক্রয় করতে পারেন।

সুতরাং, রেমিট্যান্স পাঠানোর সাথে বিমান বাংলদেশ এয়ারলাইন্স কে সম্পৃক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত আলোচ্য মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা থেকে সতর্ক থাকার জন্য সর্বসাধারণ এবং প্রিয় প্রবাসীদের বিশেষ অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সংক্রান্ত সঠিক তথ্যের জন্য বিমানের ওয়েরসাইট (www.biman-airlines.com), বিমান মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করুন এবং যোগাযোগ করুন বিমান সেলস্ সেন্টার ও কল সেন্টারে (১৩৬৩৬, ইন্টারন্যাশনাল: +৮৮০৯৬১০৯১৩৬৩৬)।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়