reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২ ঘণ্টা আগে

আফগানিস্তান ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক উত্তেজনা

জুন মাসে পাকিস্তানে সামগ্রিক সন্ত্রাসী হামলা ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতার ঘটনা কমেছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিকস)।

তবে একই সময়ে দেশটি একাধিক উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন হামলার মুখোমুখি হয়েছে। এরই মধ্যে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক উত্তেজনা।

পিকসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসের ১২৮টি হামলার তুলনায় জুনে হামলা হয়েছে ১০৮টি, যা প্রায় ১৬ শতাংশ কম। জুনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৮৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। মাসজুড়ে মোট নিহত ২৬২ জনের মধ্যে এ সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন ৫২ জন বেসামরিক নাগরিক ও ২৬ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

মে মাসের তুলনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু ৬২ শতাংশ এবং বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ২৭ শতাংশ কমেছে। আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে অপহরণের ঘটনা অর্ধেকে নেমে এসেছে। মে মাসে ৫৪ জন অপহৃত হলেও জুনে এ সংখ্যা ছিল ২৭। এ সময় অন্তত ২৭ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জুনে অন্তত চারটি আত্মঘাতী হামলা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ছিল গাড়িবোমা হামলা। ২৭ জুন করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সকে লক্ষ্য করে চালানো আত্মঘাতী হামলায় তিন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।

এদিকে গত রবিবার রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্থল অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও নিরাপদ ঘাঁটিতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। এতে ২৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে ইসলামাবাদের দাবি।

এই অভিযানের নিন্দা জানিয়ে ভারত এটিকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ‘সরাসরি হুমকি’ বলে অভিহিত করে। তবে পাকিস্তান ভারতের অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভারত আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিয়ে আসছে। যদিও এ অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে ভারত।

প্রদেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বেলুচিস্তানে হামলা ৩১ শতাংশ কমে ৪৯টিতে নেমে এসেছে। তবে খাইবার পাখতুনখোয়ার মূল অংশে এবং সিন্ধে হামলা বেড়েছে। পাঞ্জাবে জুনে মাত্র একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসলামাবাদ, আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানে কোনো জঙ্গি হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানে মোট ২ হাজার ১৬৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৪২ জন সন্ত্রাসী, ৪০৪ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ৩০৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৩৭ জন।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, আফগান ভূখণ্ডে থাকা জঙ্গি ঘাঁটি থেকেই দেশটিতে হামলা চালানো হয় এবং কাবুলের তালেবান প্রশাসন এসব ঘাঁটি নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান এবং তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে নতুন বাকযুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়