উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

ছুটি শেষ হলেও অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষক, খবর জানেন না কর্মকর্তা

ফাইল ছবি

মেডিকেল ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস পার হলেও কর্মস্থলে যোগদান না করার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ভট্টকাওয়াক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কানিজ ফাতেমা কণার বিরুদ্ধে। অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিলেও তিনি মূলত 'স্টুডেন্ট ভিসা' নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে দীর্ঘ এক মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্যই জানেন না উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া, মেয়াদ শেষেও অনুপস্থিত: অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অনুমোদন নিয়ে তিন মাসের মেডিকেল ছুটি গ্রহণ করেন কানিজ ফাতেমা। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার নাম করে ছুটি নিলেও তিনি মূলত স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়া চলে যান। গত ২ জুন তাঁর সেই মেডিকেল ছুটির মেয়াদ শেষ হয়। নিয়ম অনুযায়ী ছুটির মেয়াদ শেষেই কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও গত এক মাস ধরে তিনি বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রয়েছেন।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্ব ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও অন্য শিক্ষকেরা।

প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি: এই অনুপস্থিতির বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যে চরম বৈপরীত্য ও সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

ভট্টকাওয়াক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানি দাস দাবি করেন, "সহকারী শিক্ষক কানিজ ফাতেমার ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি বিদ্যালয়ে না আসায় বিষয়টি আমি লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করেছি। এমনকি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আমি বিষয়টি ফোনে জানিয়েছি।"

অথচ উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সম্পূর্ণ ভিন্ন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, "প্রধান শিক্ষক আমাকে ব্যক্তিগতভাবে কিছুই জানাননি। অফিসে কোনো চিঠি বা তথ্য এসে থাকতে পারে, তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত কিছু অবগত নই।"

একজন সরকারি শিক্ষক ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও কেন তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ বা কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, শিক্ষা কর্মকর্তার এমন উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এটি শিক্ষা প্রশাসনের চরম জবাবদিহিতার অভাব ও দুর্বল তদারকি ব্যবস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশ্বাস: এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "ছুটি শেষ হওয়ার পর এক মাসের মধ্যে কোনো শিক্ষক যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে যোগদান না করলে তা সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

উল্লেখ্য, সহকারী শিক্ষক কানিজ ফাতেমা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় এবং তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়