গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ডের ত্রিমুখী লড়াই

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যতই শেষলগ্নে রূপ নিচ্ছে, ততই জমে উঠছে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের লড়াই। বিশ্বমঞ্চের কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক আগে একই বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছেন বর্তমান ফুটবল বিশ্বের তিন মহাতারকা—লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। তিনজনেরই বর্তমান গোলসংখ্যা সমান ৭টি করে।
এবারের আসরে এই তিন স্ট্রাইকারের গোল করার পথে ছিল ভিন্ন ভিন্ন রূপকথা। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং জর্ডান ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি করে গোল করে নিজের সাত গোল পূর্ণ করেছেন। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট ছোঁয়ার মিশনে থাকা ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে সেনেগাল ও সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল এবং ইরাক, নরওয়ে ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একটি করে গোল করেছেন। আর নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই বাজিমাত করা নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড ইরাক ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ সেনেগাল, ফ্রান্স ও জাপানের বিপক্ষে একটি করে গোল করে এই তালিকায় শীর্ষস্থান ভাগ করে নিয়েছেন।
তবে গোলসংখ্যা সাত হলেও ফিফার টাইব্রেকিং নিয়মে আপাতত গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে। নিয়মানুযায়ী, গোল সমান হলে প্রথমে বিবেচনা করা হয় অ্যাসিস্ট বা গোল করানো। এমবাপ্পের নামের পাশে দুটি অ্যাসিস্ট থাকলেও মেসি ও হালান্ডের ঝুলিতে এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাসিস্ট নেই। আর গোল ও অ্যাসিস্ট দুটিই সমান হলে, কম সময় মাঠে থেকে বেশি গোল করা ফুটবলারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
এই ত্রিমুখী মহারথের পেছনেই ঠিক ৬ গোল নিয়ে ওত পেতে আছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কোয়ার্টার ফাইনাল ও তার পরবর্তী ম্যাচগুলোতে একটিমাত্র গোলই তাঁকে আবার এই শীর্ষ লড়াইয়ে সমতায় ফিরিয়ে আনতে পারে। শেষ পর্যন্ত মেসির সম্ভাব্য রূপকথা, এমবাপ্পের আধিপত্য নাকি হালান্ডের নতুন ইতিহাস—কার ভাগ্যে জুটবে এবারের গোল্ডেন বুট, তার চূড়ান্ত ফয়সালা মিলবে নকআউটের বাকি ম্যাচগুলোতেই।
পিডিএস/এমএইউ









































