জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী
ঝুঁকিতে হাতিয়ার লালপোল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের শঙ্কা

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভূঁঁঞার খালে নির্মিত সেতুটি (পোল) রঙ লাল বলে স্থানীয়দের কাছে ‘লালপোল’ নামেই পরিচিত। সম্প্রতি খালে তীব্র স্রোতে দুই পাশের মাটি সরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে সেতুটি। এখনই রক্ষার উদ্যোগ না নিলে লালপোল দিয়ে উপজেলা চানন্দি ইউনিয়নের ভূমিহীন বাজার থেকে কালাদুর বাজার হয়ে পার্শ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার সোলেমান বাজারে যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভূঁঁঞার খালটি ভুলুয়া নদীর মোহনা থেকে শুরু হয়ে ভূঁঁঞার হাটের পাশ ও চানন্দি ইউনিয়নের কতেক গ্রামের ওপর দিয়ে মেঘনায় পড়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় মেঘনার জোয়ার ভাটারও প্রভাব রয়েছে এই খালে।
এদিকে খালের স্রোতে ভূমিহীন বাজার থেকে সোলেমান বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ও খানাখন্দে ভরে গেছে। ইতিমধ্যে খালের পাশে থাকা কয়েকটি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূঁঁঞার খালের পানির স্রোতে ভাঙন আতঙ্কে আছে দুইপাশের বাসিন্দারা। সেতু এলাকায় খালের ভাঙনে আশপাশের দোকানপাট, ঘরবাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসাও যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
- মেঘনার জোয়ার-ভাটায় পানির তীব্র স্রোতে ভূঁঁঞার খালের দুইপাশে ভাঙন।
- হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ভূমিহীন বাজার থেকে পার্শ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার সোলেমান বাজারে যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা।
- ভাঙনের তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও মহলে জানানোর পরও কোনো ফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, মেঘনার জোয়ার-ভাটার তীব্র টানে ইতিমধ্যে খালের দুই পাশের অনেকের ঘর, বাড়ি বিলীনও হয়ে গেছে। লালপোলের দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ার তথ্য তারা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও মহলে জানানোর পরও কোনো ফল পাননি।
নাছিরপুর এলাকার যুবক ফারুক, জসিম, নাছের, আবু তাহের, আলী হোসেনসহ কয়েকজন জানান, প্রতিদিনই লালপোল দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। পোলটি ভেঙে গেলে দৈনন্দিন যোগাযোগে আরো দুর্ভোগে পড়বে এলাকার মানুষ।
স্থানীয় চানন্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহার উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান পোলটির এমন চিত্র তিনি দেখেননি, তবে শুনেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার তো করার কিছুই নেই। ইউনিয়ন পরিষদ কি ইট, পাথর আছে? আমি কি করতে পারি?’ তিনি আরো বলেন, ‘কাউকে জানিয়েও কোন লাভ হবে না। এখন বষার্কাল।’
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাইবো) নিবার্হী প্রকৌশলী মুন্সি আমির ফয়সাল বলেন, ‘পোলটি স্থানীয় সরকারের। এ বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের একনেক সভায় হাতিয়ায় ভাঙনরোধ প্রকল্পের কাজের আশা করছি। প্রকল্প এলে কাজ শুরু হবে। তাতে ভূঁঞার খালের ভাঙন কিছুটা ভাটা পড়তে পারে।’
জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকি বলেন, ‘আমি ওই এলাকায় ভাঙনের খবর শুনেছি। দেখি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে লালপোলটির বিস্তারিত খোঁজখবর নেব।’
হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, চানন্দিসহ পুরো হাতিয়ার রাস্তাঘাটের সব ধরনের খোঁজ খবর আমার জানা আছে। ইতিমধ্যে অনেকগুলো পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একটি রাস্তা নতুনভাবে নির্মাণ বা সংস্কারে সরকারের অনেক টাকার ও সময়ের দরকার হয়। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী একনেকে হাতিয়ার ভাঙনরোধ প্রকল্প অনুমোদন করেছেন।’
পিডিএস/আরডি









































