reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৫ ঘণ্টা আগে

জয় হোক ফুটবলের

শুরু হোক আত্মোপলব্ধির পাঠ ও সচেতনতা বোধ

ফুটবল বিশ্বে নতুন সাম্রাজ্যের পুনরুত্থান ঘটল। ষোলো বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পায়ের জাদুতে যে স্প্যানিশ রূপকথার জন্ম হয়েছিল, ১৬ বছর পর সেই একই ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয় যেন সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটাল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আকাশে যখন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অন্তিম বাঁশি বেজে উঠল, তখন হয়তো মনে হতে পারে, আর্জেন্টাইন ফুটবলের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সাময়িক সমাপ্তি ঘটেছে; কিন্তু এটাও সত্য, এর মাধ্যমে নতুন এক বিশ্বকাপের এ ফাইনালে ফুটবল তার নিষ্ঠুুর ও অকৃত্রিম রূপটি দেখল বিশ্ববাসী।

বলা সংগত, আট গোল ও চার অ্যাসিস্টের জাদুকরী পথচলায় আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের মঞ্চে টেনে আনা মেসি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সোনালি সমাপ্তি টানার যে স্বপ্ন বুনেছিলেন, তা মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ঘাসে এসে ধূসর হয়ে গেল। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা রক্ষণাত্মক ও নিষ্প্রভ ছিল, ফলে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরত্বপূর্ণ ১০টি সেভও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে ১০৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা বার্সেলোনা তারকা ফেরান তোরেসের বুলেট গতির শট যখন আর্জেন্টিনার জাল কাঁপাল, তখন গ্যালারিতে একদিকে লাল ঝড়ের ঢেউ, অন্যদিকে নীল-সাদাদের মাঝে বিষাদের ছায়া। তবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠ ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বের ফুটবল অনুরাগীরা সাক্ষী হয়েছেন, ইয়ামালদের তরুণ যুবশক্তি ও স্পেনের সামগ্রিক আধিপত্যের কাছে পরাস্ত হলেও আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে লড়াই করেছে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত। তবে এই পরাজয় বা বিজয়ের গাণিতিক হিসাব ছাপিয়ে ফুটবল আমাদের যে মানবিক শিক্ষাটি দিয়ে যায়, তা বড় গভীর। মহাকালের নিয়মে সব সূর্যেরই একদিন অস্তাচলে যেতে হয়। মেসির এই অশ্রুসিক্ত বিদায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন বা খেলাধুলা কেবল ট্রফি অর্জনের নাম নয়, বরং ত্যাগ ও সংগ্রামেরও প্রতীক। আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য এ রাত হৃদয়ে রক্তক্ষরণের রাত হলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বুঝতে হবে, পরাজয় মানেই সব শেষ নয়, বরং ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন অঙ্গীকার। বিশ্ব ফুটবলের নীতিনির্ধারক ও লাতিন আমেরিকার দলগুলোর জন্য এই টুর্নামেন্ট থেকে শিক্ষণীয় হলো- একক তারকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মোহ কেটে দলীয় সংহতি, মেধার সঠিক বিকাশ এবং আধুনিক রণকৌশলের মেলবন্ধন ঘটাতে হবে। কারণ ফুটবল কোনো একক ব্যক্তির খেলা নয়, মূলত দলবদ্ধ নৈপুণ্যের মাঝেই এ খেলার সাফল্য নিহিত।

বলা বাহুর‌্য, বস্তুত আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচা থেকে যে বার্তাটি বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হলো, তা হলো- হার-জিতের এই চিরন্তন দ্বৈরথই খেলার প্রাণ। মেসি ট্রফি নিয়ে মাঠ ছাড়তে না পারলেও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে যে অমর কাব্য তিনি রচনা করে গেলেন, তা সময়ের সীমানা পেরিয়ে থাকবে অমলিন। স্পেনের এই গৌরবময় শিরোপা জয় যেমন তরুণদের নতুন স্বপ্ন দেখাতে শেখায়, তেমনি মেসির বিষাদ আমাদের শেখায় কীভাবে পরাজয় মেনে নিয়েও ‘গ্রেট’ হিসেবে বেঁচে থাকতে হয়। জয় হোক ফুটবলের। এটাই আমাদের গভীর প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়