নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
নিকলীতে বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষে বিএনপি নেতার মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নে ঘোড়াউত্রা নদী থেকে গভীর রাতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ছাতিরচর ইউনিয়নে ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি কাছুম আলী (৬৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হন। তবে কাছুম আলীর মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্নি পায়নি পুলিশ। ফলে সন্দেহ রয়েছে তার মৃত্যু কারো আঘাতে না পক্ষাঘাতে হয়েছে, তার তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হওয়া যায়নি। তার মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত কাছুম আলী ছাতিরচর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের মনর উদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন রমিজ মেম্বার ও হিরু মিয়া। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ছাতিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের যুবদল নেতা জুম্মনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র ঘোড়াউত্রা নদীর সরফি কান্দা নামক স্থান থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। এ অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিয়ে আসছিলেন বিএনপি নেতা কাছুম আলী, রমিজ উদ্দিন, হিরা মিয়াসহ এলাকাবাসী।
গত শনিবার রাত ১টায় ছাতিরচর বাজার এলাকায় কাছুম আলী ও জুম্মনের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় যুবদল নেতা জুম্মন ও তার লোকজন দা এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া দিলে। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা কাছুম আলী অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা যায়। ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার নাজমুল ইসলাম বলেন, কাছুম আলী ও রমিজ মেম্বার অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিয়েছিলেন। পরে রাতে তাদের ওপর হামলা হয়। এতে কাছুম আলী মারা যান এবং আরো দুজন আহত হন বলে জানান তিনি।
ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মুক্তার হোসেন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা কাছুম আলী ও যুবদল নেতা জুম্মনের মধ্যে বিরোধিতা শুরু হয়। এরই জেরে শনিবার গভীর রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হলে রমিজ মেম্বারকে বাঁচাতে গিয়ে কাছুম আলী মারা গিয়েছে বলে তিনি জানান।
নিকলী উপজেলা বিএনপি সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না কেন, তা বুঝতে পারছি না। নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে জানা নেই। বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোয় ভাঙন দেখা দিয়েছে, গ্রামগুলো বিলিন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে শুনতে পেয়েছি। হার্ট অ্যাটাক নাকি অন্য কোনো কারণে মারা গেছেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে তা জানা যাবে। নিকলীতে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন কোনো খোঁজখবর ও জোরালো ভূমিকা নেয়নি বলে তার দাবি ।
নিকলী থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কাছুম আলী অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো জানান, মৃতদেহে প্রাথমিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তির সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
"





































