আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর)
সেবার মান বেড়েছে শ্রীপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে

গাজীপুরের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৯৮৩ সালে স্থাপিত হয়। একসময় হাসপাতালটির ভেতরে ও বাইরে ছিল নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দালালদের উৎপাত, সেবার নিম্নমান। তবে বর্তমানে হাসপাতালের চিত্র বদলে গেছে। সর্বত্র লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। সেবার দিক থেকে প্রথম সারির সরকারি হাসপাতাল হিসেবে ইতিমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে। সেরা ভায়া টেস্টের জন্য ঢাকা বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান হয়েছে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য উপ-কর্মকর্তাকে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২২ সালে গাজীপুর সিভিল সার্জন বিশেষ পুরস্কারে প্রদান করেছেন।
হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভর্তি, জরুরী ও বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নেয়া রোগী ছিল ৮-১০ হাজার। ২০২২ সালে এই সংখ্যা সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০-২৫ হাজার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বৃদ্ধির কারণে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাগান, বিনামূল্যে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের কারণে সরকারি এ হাসপাতাল সম্পর্কে মানুষের আস্থা বেড়েছে। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের প্রচন্ড ভিড়। জায়গা সংকোলনের কারণে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর জনবল নিয়োগ না থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে বিঘ্ন হচ্ছে। তারপরেও থেমে নেই চিকিৎসা সেবা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে এনসিডি কর্নার নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। এখানে ডাইবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি রোগীদের বিশেষ সেবা দেয়া হয়। রয়েছে ছোট বাচ্চাদের দুগ্ধ পান করার জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। এছাড়া আইএমসি আই কর্নার এর মাধ্যমে শিশু বাচ্চাদের আলাদা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বহির্বিভাগে দাতের চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সেবা চালু আছে। প্যাথলজি বিভাগে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, জরায়ুর মুখে ক্যান্সার পরীক্ষা নিরাময় ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সিজারিয়ান অপারেশন চালু করা হয়েছে। হাসপাতালে একটি ডে কেয়ার সেন্টার চালু করা হয়েছে। নতুন ৭ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ১২ জন চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে যা উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য নতুন এম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিতের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন স্থাপন কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৭০ হাজার করোনা টিকা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, সীমিত সামর্থের মধ্যেও প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সকল পর্যায়ের কর্মরত চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মো. ইকবাল হোসেন সবুজ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সকল নাগরিকের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। তারই ধারাবাহিকতায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি আধুনিক মানসম্মত হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। সেবার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
"






































