পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালী
মেডিকেল কলেজের গাড়ির অপব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন

সরকার যখন ব্যয় সংকোচন ও জ্বালানি ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি অনুসরণ করছে, তখন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের গাড়ির ব্যবহার নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। অধ্যক্ষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি নিয়মিতভাবে উপাধ্যক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন, এমন অভিযোগ ঘিরে কলেজজুড়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের ব্যবহারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি পাজেরো জিপ বরাদ্দ রয়েছে। তবে অভিযোগ, গাড়িটি অধিকাংশ সময় ব্যবহার করেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. এ.এফ.এম. আতিকুর রহমান।
সূত্র জানায়, সরকারি অনুমোদিত জনবল কাঠামোয় উপাধ্যক্ষ পদ না থাকলেও স্টাফ কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ডা. আতিকুর রহমানকে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি অধ্যক্ষের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো জান গেছে, সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রয়োজনেও সরকারি গাড়িটি ব্যবহার করা হয়। গত ৯ জুন ভোরে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় যাওয়ার সময়ও অধ্যক্ষের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িটি ব্যবহার করেন উপাধ্যক্ষ। এ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, গাড়িটি আমার অনুকূলে বরাদ্দ হলেও বিভিন্ন সময় প্রভাব খাটিয়ে উপাধ্যক্ষ এটি ব্যবহার করেন।
তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা গেছে, অধ্যক্ষের জন্য মাসিক ১৮০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ থাকলেও গত কয়েক মাসে উপাধ্যক্ষের ব্যবহৃত গাড়ির জন্য ৮৭৫ লিটার জ্বালানির বিল জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে জমা দেওয়া হয়। পরে অস্বাভাবিক জ্বালানি ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিলটি ফেরত দেয় হিসাব রক্ষণ বিভাগ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি গাড়ির ব্যবহার ও জ্বালানি ব্যয়ের বিষয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
গাড়িচালক অরুণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘স্যার (উপাধ্যক্ষ) গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে অনেক সময় তিনি নিজেই জ্বালানির টাকা পরিশোধ করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাধ্যক্ষ ডা. এ.এফ.এম. আতিকুর রহমান বলেন, আমি নিয়ম মেনেই গাড়ি ব্যবহার করি। সরকারি বরাদ্দের বাইরে প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগতভাবে জ্বালানি কিনেছি। এছাড়া গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষও সবসময় নিয়ম অনুসরণ করেন না।
সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি অপচয় রোধে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, সরকারি গাড়ি ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সরকারের নীতির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
"






































