লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
টিকটক নিয়ে কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা স্বামী গ্রেপ্তার

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে সুমনা রওশনা আক্তার (৩৭) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে
চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিমন
মল্লিকের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিমনকে আটক করেছে
পুলিশ। নিহতের পরিবারসহ পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন লিমন।
গত সোমবার দিঘলিয়া ইউনিয়নের চর দিঘলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়।
নিহত সুমনা রওশনা আক্তার লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার দৌলতদী গ্রামে।
পুলিশের ভাষ্য, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল।
সোমবার টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে আবারও বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকালে বাড়ি ফিরে নিজেই চিৎকার শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবার রাত ১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকান্ড।
সুমনার মা রোশেদা বেগম জানান, সোমবার দুপুরের পর জামাই লিমন ফোনে আমাকে জানায় আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি। জামাইয়ের কথা তখন বিশ্বাস করিনি। এরপর সন্ধ্যায় এক মেম্বর ফোন করে জানান, আপনার মেয়ে মারা গেছে। এরপরেই লোহাগড়া থানা পুলিশ ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানায়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবিউল ইসলাম বলেন, আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
"






































