চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে কৃষিতে নতুন রূপ

কৃষি উদ্যোক্তা মুনজের আলম মানিক। দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ-আইসিএমএবি থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে যোগ দেন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে তিন বছর আগে নিজেকে কৃষি পেশায় যুক্ত করেন তিনি। সদর উপজেলার আতাহার-দক্ষিণশহর এলাকায় ১১০ বিঘা জমিতে ৫ জন মিলে ‘বরেন্দ্র কৃষি উদ্যোগ’ নামে একটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন। যেখানে উৎপাদন হচ্ছে দুধ। পালিত হচ্ছে- গাঁড়ল, হাঁস ও মুরগি। ফলের মধ্যে আম, কলা, ড্রাগন, পেপে ও পেয়ারার চাষ হচ্ছে। এছাড়াও ফসলের মধ্যে ধান, আখ, মসুর ও সরিষা চাষ করেছেন।
কৃষি উদ্যোক্তা মুনজের আলম মানিক বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে ১১০ বিঘা জমিতে ‘বরেন্দ্র কৃষি উদ্যোগ’ নামে একটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছি। এখন আমার সব মনোযোগ কৃষিতে। আমরা একটি কৃষি বাজার গড়ে তুলতে চাই। যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারজাত করতে পারেন। আর তা করতে পারলে কৃষক আগের চেয়ে বেশি দাম পাবেন।
অর্গানিক কৃষিপণ্যের মান নির্ধারণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তারপরও অর্গানিক কৃষিপণ্য উৎপাদনের প্রচেষ্টা রয়েছে তাদের। আমরা যদি সুস্থ থাকতে চাই, ভালো খাবার খেতে চাই তাহলে উৎপাদনটাও আমাদের করতে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, কৃষিতে নতুন ধারার সৃষ্টি করছেন শিক্ষিত তরুণরা। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষির চিত্র পাল্টে দিচ্ছেন। বিদেশী ফল ও সবজি চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন এ জেলার তরুণরা। আম, বিদেশী ফল ও সবজি চাষে তারা সূচনা করেছেন নতুন দিগন্তের। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে তরুণরাই এখন কৃষির প্রাণ। এখন কৃষিকাজে জড়িতদের অধিকাংশই শিক্ষিত তরুণ।
নাইজার আহমেদ নাহিদ পিপলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরির কথা না ভেবে কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। বাবার কৃষি খামার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছেন। ৭০ বিঘা জমিতে মাল্টা, কমলা, নতুন জাতের ব্যানানা, পালমার, সূর্যডিম আম চাষ শুরু করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ফলের চারা উৎপাদন ও বিপণন করছেন তিনি। এ উদ্যোক্তা জানান, মাটির টানে তিনি নিজেকে কৃষি পেশায় সম্পৃক্ত করেছেন। যার মাধ্যমে নিজেকে স্বাবলম্বি করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, একসময়ের আমদানিনির্ভর বিদেশি সবজি ও ফলগুলো এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাষ হচ্ছে। শিক্ষিত তরুণরা তাদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র খুঁজতে গিয়ে কৃষিতে আত্মনিয়োগ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন তরুণরাই কৃষিকে নতুন জায়গায় নিয়ে যাবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আশরাফুল আরিফ বলেন, শিক্ষত তরুণরা কৃষিতে প্রবেশ করায় এই খাতটা নতুন রূপ পাচ্ছে। মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে। আর তরুণরা সেই জায়গা ধরে নতুন ফসল ও ফলের উৎপাদনে যাচ্ছেন।
"







































