ক্রীড়া ডেস্ক
সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি : মরক্কো কোচ

এবারের বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের বাধা টপকাতে পারল না মরক্কো। টানা দ্বিতীয়বার ফরাসিদের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে অ্যাটলাস লায়ন্সদের। ফ্রান্সের কাছে হেরেও শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওহাবি। তার মতে, খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার রাতে বোস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান ডেম্বেলেদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে পুরো ম্যাচেই চাপে ছিল মরক্কো। এর আগে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফরাসিদের কাছে একই ব্যবধানে হেরেছিল আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওহাবি বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের মাথা উঁচু রাখতে বলেছি। কারণ আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখানেই আমাদের থেমে থাকলে চলবে না। অবশ্যই আমাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে। আরো উন্নতি করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা স্রেফ এটুকু বলেই বসে থাকতে পারি না যে আমরা আমাদের পারফরম্যান্সে খুশি ও গর্বিত। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এর জন্য আমাদের বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে, নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে।’
ওহাবি অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন, ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্স তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। বলের দখল, আক্রমণের গতি এবং দুই উইং ব্যবহার করে ফরাসিরা মরক্কোর রক্ষণকে চাপে রেখেছিল। তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধ আমাদের জন্য খুব কঠিন ছিল। ফ্রান্স বল পায়ে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। তারা দুই প্রান্ত ও মাঝমাঠ দিয়ে আমাদের অনেক সমস্যায় ফেলেছে। আর যখন বল আমাদের কাছে এসেছে, তখন আমরা দ্রুত আক্রমণে উঠতে পারিনি। ফলে আমাদের অনেক বেশি দৌড়াতে হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত তাদেরই সুবিধা এনে দিয়েছে।’ ফরাসিদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি, ‘আমাদের স্বীকার করতেই হবে, তারা দুর্দান্ত দল। তাদের দলে অসাধারণ খেলোয়াড় রয়েছে। তারা আমাদের চেয়ে বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। আমাদের পরিকল্পনায় ঘাটতি ছিল, বলের দখলে থাকলেও আমরা সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারিনি। এ পরাজয় মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’
আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মরক্কো। স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে দেশটি। তার আগে দলকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলাই ওহাবির মূল লক্ষ্য। এবারের আসরে ফ্রান্স শিরোপা জিতবে কি না- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও তাদের সামর্থ্যরে প্রশংসা করেছেন তিনি। ওহাবি বলেন, ‘তারা ফাইনালে যেতে এবং ট্রফি জিততে চায়। সেই সামর্থ্য তাদের অবশ্যই আছে। এখন তাদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। সেমিফাইনালে তারা স্পেন অথবা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি আশা করি, প্রতিপক্ষ যেন বেলজিয়াম হয়।’ এমবাপ্পের গোলের আগে হ্যান্ডবল হয়েছিল, দাবি মরক্কোর কোচের : একই মঞ্চ, একই প্রতিপক্ষ, একই ফলাফল। কাতার বিশ্বকাপের পর এবারও ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মরক্কো। পার্থক্য শুধু একটাই। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া আফ্রিকার দেশটি এবার বিদায় থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ফ্রান্সের বিপক্ষে এ পরাজয় অবশ্য মেনে নিয়েছেন মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওহাবি। তবে এমবাপ্পের গোলের আগে হ্যান্ডবল হয়েছে বলেও দাবি করেছেন এ কোচ। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাতে বোস্টনে বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও মরক্কো। এদিন আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচের শুরু থেকে অ্যাটলাস লায়ন্সদের চাপে রেখেছিল ফরাসিরা। ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সকে লিড এনে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৬০ মিনিটে নিখুঁত শটে মরক্কোর জালে বল পাঠিয়ে দেন এ রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার। তবে মরক্কোর কোচের দাবি, এমবাপ্পের গোলের আগে ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিওর হাতে বল লেগেছে। এ সময় মরক্কোর ফুটবলাররা হ্যান্ডবল আবেদন করলেও রেফারি তা আমলে নেননি। এর ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরই এমবাপ্পে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওহাবি বলেন, ‘হ্যান্ডবল হয়েছিল বলে কিছু খেলোয়াড় খেলা থামিয়ে দিয়েছিল। আর সেখানে নিশ্চিতভাবেই হ্যান্ডবল হয়েছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি জানি না সেটির বাঁশি বাজানো উচিত ছিল কি না। আমার কোনো ধারণা নেই... শেষ পর্যন্ত, এমবাপ্পের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা থেকে গোলটি হয়।’ তবে রেফারিং বিশ্লেষক হুয়ান গুজম্যানের মতে, মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। এর পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রথমত, হ্যান্ডবলটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং গোলের সঙ্গে হ্যান্ডবলের কোনো সরাসরি সংযোগ ছিল না। দ্বিতীয়ত, বলের দখল ফ্রান্সের কাছে ছিল না। এদিকে ফ্রান্সের কাছে হারলেও দলটির প্রশংসা করেছেন মরক্কো কোচ। তিনি বলেন, ‘তারা দল হিসেবে দুর্দান্ত। তাদের দলে অসাধারণ খেলোয়াড় রয়েছে। তারা আমাদের চেয়েও বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছে।
"









































