বাফুফে নির্বাচন

সালাউদ্দিনকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কেউ নেই!

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনে সভাপতি ছাড়া বাকি পদগুলোতে প্রার্থী দিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী সমন্বয় পরিষদ। দেশের ফুটবল প্রধানের পদে প্রার্থী না দেওয়ার কোনো কারণও জানায়নি তারা।

আগামীকাল শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে বহুল আলোচিত নির্বাচন। সে লক্ষ্যে গতকাল ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে সমন্বয় পরিষদ। সেখানে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা পুনরুদ্ধার, র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি, জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ে ফুটবলকে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি আছে।

বর্তমান সভাপতি সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ ৩৬ দফা ইশতেহার দিয়েছে। আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম মানিক দিয়েছেন ২১ দফা ইশতেহার।

সমন্বয় পরিষদের হয়ে সিনিয়র সহসভাপতি পদে বর্তমান কমিটির এই পদধারী আবদুস সালাম মুর্শেদীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক ফুটবলার শেখ আসলাম। সব মিলিয়ে চার সহসভাপতি পদে লড়বেন আটজন প্রার্থী। সমন্বয় পরিষদের তিনজন এ পদে লড়বেন। এই প্যানেলের ১৯ প্রার্থীর মধ্যে বাকিরা লড়বেন সদস্য পদে। মোট ১৫ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে গতকাল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা করতে এসে সভাপতি পদে প্রার্থী না দেওয়া নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হন সমন্বয় পরিষদের নেতারা। সালাউদ্দিনের কমিটিতে সহসভাপতির দায়িত্বে থাকা এবং এবার সমন্বয় পরিষদে যোগ দেওয়া মহিউদ্দিন আহমেদ দেন সেসব প্রশ্নের উত্তর, ‘এই ১৯ জনের বাইরে আমাদের আর কোনো প্রার্থী নেই। আর কোনো প্রার্থী দেইনি আমরা। কারণ, আমরা মনে করি আমাদের এই সিনিয়র প্রার্থী, জেলা এবং ক্লাবের প্রতিনিধিরা যদি পাস করেন, তাহলে বাফুফের যেকোনো সিদ্ধান্ত আমাদের বাইরে রেখে হওয়ার সুযোগ নেই।’

মহিউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ‘বাফুফের সভাপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নয়। সেখানে সব সিদ্ধান্তই নির্বাহী কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত নিয়ে পাস হয়। তাই আমাদের প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী না থাকলেও সমস্যা নেই। আমাদের এই প্রার্থীরা পাস করলে আমাদের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু হবে না।’

সালাউদ্দিনের কমিটিতে সদস্য পদে থাকা শেখ আসলাম আশাবাদী সমন্বয় পরিষদের প্যানেল নিয়ে। তৃণমূল পর্যায়ের পরীক্ষিতদের ১৩৯ জন কাউন্সিলর বেছে নেবেন বলে বিশ্বাস তার, ‘এই প্যানেলে জেলা-বিভাগ-ক্লাবের লোকেরা রয়েছেন, যারা পরীক্ষিত সৈনিক। ফুটবলের উন্নয়নে আগে তারা পাস করেছেন। আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করছি। কাউন্সিলরদের প্রতি আমার আহ্বান, এই পরীক্ষিতদের আপনারা বেছে নেবেন।’

২০০৫ সালে সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলা বাংলাদেশ গত চার আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়। বর্তমানে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে দলের অবস্থান ১৮৭। সমন্বয় পরিষদের ইশতেহারে সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, এসএ গেমস এবং এশিয়ান গেমসের জন্য আগামী চার বছরের মধ্যে শক্তিশালী দল গঠনের প্রতিশ্রুতিও আছে।

ইশতেহারে ফুটবলের সোনালী অতীত ফেরানোর লক্ষ্যে ১২ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা, থানা-জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত লিগ ও বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতাগুলো আয়োজন, সোহরাওয়ার্দী কাপ ও শেরেবাংলা কাপ আয়োজন, পেশাদার লিগকে ঢেলে সাজানো, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত, ফিফার অনুদানের সুষ্ঠু ব্যবহার, তৃণমূলের সংগঠকদের জন্য বাফুফের দরজা খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও আছে জেলার লিগ চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে শেখ রাসেল জাতীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ, আট বিভাগ নিয়ে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ, সব বিভাগীয় শহরে স্টেডিয়াম, টার্ফ ও জিমনেশিয়াম তৈরি এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ও শেখ কামাল আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ মানসম্মত দল নিয়ে আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সমন্বয় পরিষদ।

 

 

"