শেখ এ কে এম জাকারিয়া

  ০৪ নভেম্বর, ২০২৩

হেমন্তের সৌন্দর্য

শরতের পরেই হেমন্তের উপস্থিতি। ছয় ঋতুর মধ্যে চতুর্থ ঋতু হলো হেমন্ত, যা কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস মিলে আমাদের সামনে হাজির হয়। হেমন্তের শেষে আসে শীত, তাই হেমন্তকে শীতের পূর্বাভাস বলা হয়।

হেমন্তের প্রকৃতি চিন্তা করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাকা ধানের ঋতু। ওই সময় পাকা ধানের সোনালি আলোয় উদ্ভাসিত হয় বাংলার জনমানবহীন মাঠঘাট। খুশির আলো বিচ্ছুরিত হয় কৃষকদের ঘরে ঘরে। চারপাশ থাকে উৎসবমুখর। হেমন্তের হিমেল বাতাস কনকনে শীতের আগাম সতর্কবার্তা ঘোষণা করে। এ সময়ে প্রকৃতি অন্যরকম সাজে সেজে ওঠে। বর্ষার জল শুকিয়ে মাঠঘাট, ফসলের জমি হয়ে ওঠে অনুপমা।

সুদূর অতীতে বাংলার বছর শুরু হতো হেমন্তকাল দিয়ে। এর মূল কারণ ছিল এই ঋতুতে ধান উৎপাদন হতো। বর্ষার শেষ দিকে রোপণ করা আউশ-আমনজাতীয় ধান শরৎকালে বেড়ে ওঠে এবং কার্তিকে তা পরিপক্ব হয়। পরে সেই ধান কেটে ঘরে তোলা হয়। এই ধান কাটাকে কেন্দ্র করে নবান্ন উৎসবের সূচনা হয়। নবান্ন মানেই হলো নতুন অন্ন বা নতুন খাবার, যা হেমন্তকালীন ধান কাটার পর নতুন চালের পিঠা, পায়েস প্রভৃতি খাওয়ার উৎসব।

হেমন্তে পালিত এ উৎসব বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী লোকপ্রিয় উৎসব, যা নতুন ধানের থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত হয়। এ উৎসবে বিভিন্ন ধরনের পিঠা, পায়েস, ক্ষীরজাতীয় সুস্বাদু খাবার তৈরি হয় এবং স্বজন-পড়শিদের ঘরে ঘরে বিতরণ করা হয়। খাওয়া-দাওয়া ছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় নৃত্য, বাউল গান, পালা গান, লোকগীতি পরিবেশিত হয়ে থাকে। ধান কাটা, নবান্ন উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও এ ঋতুতে অনেক ফুল ফোটে। তার মধ্যে গন্ধরাজ, মল্লিকা, শিউলি, কামিনী, জুঁই উল্লেখ করার মতো।

বাংলার প্রতিটি ঋতুর যেমন আপন বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য আছে তেমনি হেমন্তেরও আছে অনিন্দ্যকান্তি সোন্দর্য। মানুষের মনকে মোহিত করে হেমন্তের সোনালি প্রকৃতি ও নবান্ন উৎসব। হালকা হিমেল বাতাস, জনবসতিহীন বিস্তৃত সোনালি মাঠঘাট, সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় অপূর্ব দৃশ্য, যা মানব মনকে প্রফুল্প রাখে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়