মানবপাচার ও প্রতারণা চক্রের তিন সদস্য গেপ্তার

ইতালি, জার্মানীসহ ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার ও প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে গেপ্তার করেছে র্যাব-৪। রাজধানী মিরপুর এলাকা থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
“বাংলাদেশ আমার অহংকার”- এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
র্যাব-৪ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। আমরা আজকে আপনাদেরকে একটি ভয়ানক প্রতারক চক্রের বিষয়ে উপস্থাপন করবো; যারা ইতালি, জার্মানীসহ ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে।
গত কয়েক দিন আগে জনৈক ইমরান হোসেন আমাদের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন যে তিনি এই চক্রের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ সংক্রান্তে তিনি ডিএমপির শাহ আলী থানায় একটি মামলা রুজু করেন। উক্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে উক্ত চক্রের মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে এবং সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে। গেপ্তারকৃতরা হলো- মোঃ এজাজুল হক রতন (৬৩), মোছাঃ নার্গিস বেগম (৪০) এবং মোঃ বাদল (৫৫)।
মামলার এজাহার ও আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অত্র মামলার বাদী ইমরান হোসেন গাজীপুরের স্থানীয় অধিবাসী এবং একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টে চাকুরী করত। আসামী মোছাঃ নার্গিস বেগম ও মোঃ বাদল বাদীর বাড়ীর পাশে বেশ কয়েক বছর পূর্বে সেখানে বাড়ি করে বসবাস শুরু করে। সেই সুবাদে তাদের সাথে বাদীর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। আসামীরা অত্র মামলার বাদী ইমরানকে ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখায়। তখন বাদী বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তারা জানায় যে, তাদের পরিচিত এজেন্টের মাধ্যমে ইতালি পাঠাতে পারবে। পরবর্তীতে তারা বাদীকে আসামী রতন এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আসামী রতন বাদীকে ২২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে পাঠানোর প্রস্তাব করে। বাদী সরল বিশ্বাসে আসামীদের প্রস্তাবে রাজি হয়। গত ১৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ বাদী শাহ আলী থানাধীন মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্সে আসামি রতনের অফিসে এসে নগদ ৭০ হাজার টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ও তারিখে বাদী আসামিদেরকে পাঁচ লক্ষ ২০ হাজার টাকা প্রদান করে। আসামি রতন বাদীকে কিছু কাগজপত্র প্রদান করে এবং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে আসামী রতন বাদীকে জানায় যে ইতালি সরকার লোক নেওয়া বন্ধ করেছে তাই তাকে ইতালি পাঠাতে পারবে না।
পরবর্তীতে আসামিরা বাদীকে জার্মানী পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। তাদের দেওয়া প্রস্তাবে রাজি হয়ে জার্মানী যাওয়ার জন্য আরো ৩ লক্ষ টাকা দেয়। টাকা দেওয়ার এক মাস পরে আসামিরা জানায় তার কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি থাকার কারণে তাকে জার্মানী পাঠাতে পারবে না। তবে তারা বাদীকে কানাডাতে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। বাদী সরল বিশ্বাসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ভিসা, মেডিকেল ও বিমানের টিকিট বাবদ বিভিন্ন সময়ে আসামিদেরকে আরো ১১ লক্ষ টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে বাদীকে বিদেশে না পাঠিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাতে থাকে। গত জানুয়ারি মাসে বাদী আসামী রতনের অফিসে এসে জানতে পারে তার অফিস কয়েক মাস পূর্বে বন্ধ করে দিয়েছে। আরো জানতে পারে যে, আরো কয়েকজন ভুক্তভোগীর নিকট হতে আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে আসামিদের সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে উক্ত মামলা রুজু করে।
তৎক্ষণাৎ র্যাব-৪ এর আভিযানিক দল অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে। এরপর গতকাল ঢাকার মিরপুর ও আশুলিয়ায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত আসামিদের গেপ্তার করে এবং সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে ।
আমাদের কাছে এই চক্রের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছে এরকম আরো কয়েকটি রিপোর্ট এসেছে। এসব বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমরা আসামীদের থানায় প্রেরণ করবো, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।









































