বেনাপোল প্রতিনিধি
শার্শায় পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টা, বিএনপি নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরের শার্শায় এক পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য মামুন হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকায় নায়েক পদে কর্মরত।
মামলাটি করেছেন তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল। গত ৪ জুন শার্শা থানায় দায়ের করা এ মামলায় আসামি করা হয়েছে শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু, মিন্টুর দুই ভাই লাল্টু হোসেন ও পিন্টু হোসেন, আব্দুস সালামের দুই ছেলে সুজন হোসেন ও সবুজ হোসেন, এবং মৃত আলাউদ্দীনের ছেলে টিটন হোসেন।
তবে মিন্টু বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিএনপির একটি পক্ষ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। অপর পক্ষ বলছে ৫ আগস্টের পর থেকে থানার ওসি, দারোগাসহ গ্রামের বিভিন্ন নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা করে এলাকা ছাড়া করেছে মিন্টু বাহিনী। বিভিন্ন ব্যবসা জোর দখল করে নিয়ে চাঁদাবাজির ও অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। উপজেলা সংলগ্ন এই গ্রামটিতে যখন তখন মব সৃষ্টি করে ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে মিন্টুর লোকজন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন পুলিশ সদস্য মামুন হাসান। গত ২৯ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোটরসাইকেলে করে শার্শা বাজারে যাওয়ার পথে শ্যামলাগাছি গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার গতিরোধ করেন। পূর্ব বিরোধের জেরে তারা তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবাদ করলে মোস্তফা কামাল মিন্টুর নির্দেশে অন্য আসামিরা মামুন হাসানকে মারধর শুরু করেন। এ সময় মিন্টু লোহার পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে বাম হাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলিতে জখম হন। পরে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে লোহার পাইপ, কোদালের আঘাত ও লোহার রড দিয়ে তার দুই পায়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ও দুই হাঁটুতে গুরুতর জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামুন হাসানকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ফুফা আব্দুর বারীককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া হামলার সময় টিটন হোসেন আহত পুলিশ সদস্যের পকেটে থাকা ৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শ শেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিশ সদস্যের পরিবারের অন্য সদস্যরা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এলাকার ত্রাস ছিলেন। তার বিরুদ্বে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে থানায় জিডি করা হয়। সেখানে তার নাম ছিল না। এরপর তার বিরুদ্ধে একই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। যা পরিকল্পিত। মিন্টু দাবি করেন, তিনি শার্শা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। এর জেরেই স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করতে এ মামলা করেছে।
এ বিষয়ে যশোর “ক” নাভারণ সার্কেলের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, মারধোরের শিকার মামুন হাসান জুয়েল একজন পুলিশ সদস্য। ছুটিতে সে বাড়িতে আসলে পূর্ব শত্রুতায় তাকে ও তার স্বজনদের মারধোর করে কয়েকজন। মামলার পর আমরা মিন্টুকে ধরতে যাই। সঙ্গে ডিবির একটি টিমও ছিল। কিন্তু সেখানে মব সৃষ্টি করা হয়। এ কারণে মিন্টুকে ধরতে পারিনি। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, মারধোরের অভিযোগের ঘটনায় ইতিমধ্যে একটা তদন্ত কমিটি করে সত্যতা যাচাইয়ে কাজ চলছে। যে কোন অপরাধমুলক কাজের বিরুদ্ধে আমাদের দল এখন জিরো টলারেন্স ভুমিকায়। যদি এখানে কারো বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমান মেলে তবে দল তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
পিডিএস/এমএইউ









































