শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
মাধবপুরে ডাকাত সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৭

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগান এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় মূল হোতা সর্দার আমির হোসেনসহ সাতজন সক্রিয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে সাহসিকতার সাথে ডাকাত সর্দারকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহা উদ্দিন আহমেদ লিটন। গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে কাজ শেষে ন্যাশনাল টি কোম্পানির তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহা উদ্দিন আহমেদ লিটন, হেড ক্লার্ক, পিএফ ক্লার্ক ও অন্যান্য কর্মচারীরা একটি ভাড়া করা নোহা গাড়িতে বাগানে ফিরছিলেন। সুরমা চা বাগান এলাকায় পৌঁছামাত্র একদল মুখোশধারী ডাকাত সড়কের মধ্যে ওঁৎ পেতে থেকে তাঁদের গাড়িটির গতিরোধ করে হামলা চালায়।
এ সময় ডাকাতরা নোহা গাড়ির চালক মো. শাহীন মিয়াকে গাড়ি থেকে টানাহেঁচড়া করে গভীর চা বাগানের ভেতরে নিয়ে মুখ, হাত ও পা বেঁধে মারধর করে। একপর্যায়ে ডাকাত সর্দার আমির হোসেনের নেতৃত্বে চালককে ছুরিকাঘাত করে নোহা গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহা উদ্দিন আহমেদ লিটন তাঁর হাতে থাকা ওয়াকিটকি দিয়ে ডাকাত সর্দার আমির হোসেনের মাথায় আঘাত করেন। এতে আমির হোসেন আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ডাকাত সর্দারকে আটক করা হয় এবং রক্তাক্ত চালক শাহীনকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ও মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানাকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহতদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। আটক ডাকাত সর্দারকে হেফাজতে নেওয়ার পরদিন, ১৯ জুলাই ওসির নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও ৬ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে মোট ৭ জন ডাকাতকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে ডাকাত সর্দারকে আটক করায় তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহা উদ্দিন আহমেদ লিটনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
পিডিএস/এমএইউ









































