গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
বর্ষার পানিতে ফিরল ধিয়াল-খলশানির ঐতিহ্য

বর্ষাকালের টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের খাল-বিল, নদী-নালা ও মাঠঘাট পানিতে কানায় কানায় ভরে উঠেছে। বর্ষার পানির সমাগমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ ধরার প্রাচীন উপকরণ 'চাঁই' বা 'খলশানি'র চাহিদা। তবে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় এটি 'ধিয়াল' বা 'দারকি' নামে বেশি পরিচিত।
হাটে হাটে বিক্রির ধুম: সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক সলঙ্গা হাটসহ স্থানীয় ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন ধিয়াল-খলশানি বিক্রির উৎসব চলছে। বর্ষার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এর বেচাকেনাও। সলঙ্গা হাট ঘুরে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা দরদাম করে পছন্দমতো ধিয়াল-খলশানি কিনছেন। আকারভেদে প্রতিটি ধিয়াল-খলশানি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। সলঙ্গা ছাড়াও নলকা, সাহেবগঞ্জ, ভূঁইয়াগাতী, ঘুড়কা, পাঁচলিয়া ও উনুখা হাটে নিয়মিত এসব উপকরণ বিক্রি হয়।
কারিগরদের কষ্ট ও নারী হস্তশিল্পীদের অবদান: সলঙ্গা হাটে বিক্রি করতে আসা ধুবিল কাটার মহল, কালিবাড়ী ও মালতিনগর গ্রামের কারিগর পরিমল চন্দ্র, বাসুদেব, নিজাম ও জফের আলী জানান, বাঁশ দিয়ে ধিয়াল-খলশানি তৈরি করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ। ঘরের নারীদের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ করা প্রায় অসম্ভব। গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে ফাঁকে নারীরা প্রতি সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয়টি ধিয়াল-খলশানি তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
দেশি মাছ ও কৃষকের অভিজ্ঞতা: সলঙ্গা এলাকার বওলাতলা গ্রামের কৃষক জসমত আলী জানান, খাল-বিল ও মাঠে মাছ ধরার জন্য তিনি ৩৫০ টাকা দরে তিনটি ধিয়াল-খলশানি কিনেছেন। এসব ফাঁদে পুঁটি, মলা/মোয়া, চিংড়ি, দাঁড়কিনা ও ছোট কৈসহ হরেক রকমের দেশীয় মাছ ধরা পড়ে।
সংকটে প্রাচীন পেশা: কারিগরদের ক্ষোভ, প্রচুর শ্রমের তুলনায় তারা উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে কৃষিজমিতে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে জলাশয়ে দেশীয় ছোট মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক পরিবারের জীবিকার পথ এবং গ্রামবাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্য মাছের সংকট ও আধুনিকতার ধাক্কায় এখন নানান আইনি ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পিডিএস/এমএইউ









































