বন্যাদুর্গত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ছারছীনা দরবার শরীফের মানবিক সহায়তা

দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আবারও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দরবার শরীফ।
পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)-এর নির্দেশনায় দরবার শরীফ কর্তৃক পরিচালিত ‘হেমায়েতে ইসলাম মিশন’ সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ করেছে। দুর্ভোগে থাকা মানুষের হাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের খোঁজখবর নেওয়ার মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি স্থানীয়দের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা পশ্চিম বড়গোনা ও ছনুয়া ইউনিয়ন এবং কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার নাপিতখালী এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা শাহ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ (মা.জি.আ.) উপস্থিত থেকে সমগ্র কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ত্রাণ বিতরণকালে তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি বলেন, “ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ঈমানি দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ছারছীনা দরবার শরীফ সবসময় দ্বীন, দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।”
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যদি সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে দুর্যোগকবলিত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।
ত্রাণ পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা বলেন, দুর্যোগের কঠিন এই সময়ে ছারছীনা দরবার শরীফের সহায়তা তাদের নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা হযরত পীর ছাহেব কেবলা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
ত্রাণ বিতরণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. হাফেজ মাওলানা মো. রুহুল আমিন, কেবিনেট সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা মো. বোরহান উদ্দীন ছালেহী, সহ-ছাত্র হিযবুল্লাহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মির্জা মো. ইয়াসিন রহমান জবীহুল্লাহ, চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. আবদুর রহমান, চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মো. সাইফুদ্দীন খন্দকারসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, আলেম-উলামা, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
উল্লেখ্য, ছারছীনা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা নেছারুদ্দীন আহমদ (রহ.) ১৯৪৫ সালে (১৩৫২ বঙ্গাব্দ) প্রতিষ্ঠা করেন ‘হেমায়েত ইসলাম ফান্ড’। এর লক্ষ্য ছিল নওমুসলিমদের সহায়তা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি দুর্ভিক্ষ, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাহত মানুষের সহায়তা, তুরস্কের ভূমিকম্পে ত্রাণ কার্যক্রম এবং ফেনী, নোয়াখালী ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, মানবকল্যাণে নিবেদিত এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে অব্যাহত থাকবে।









































