​নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

  ০১ জুন, ২০২৬

নবীনগরে ‘কমিটি বাণিজ্য’র অভিযোগে দুই বিএনপিনেতার হাতাহাতি

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি অনুমোদন কেন্দ্র করে উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন সভাপতি পদপ্রার্থীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ সভাপতি পদপ্রার্থীকে নিজের পায়ের জুতা খুলে সাধারণ সম্পাদকের দিকে উঁচিয়ে তেড়ে আসে। তৃণমূল দুই নেতার মাঝে এমন হাতাহাতির ঘটনার একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।

​ঘটনাটি ঘটেছে নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সম্পাদক কে এম মামুনুর রশীদের বাড়ির সামনের রাস্তায়। সেখানে নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম এবং শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মাহবুর রহমান মুখোমুখি হন।

​ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই নেতার মধ্যে প্রথমে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয়েই একে অপরের দিকে তেড়ে যান।

আশেপাশের নেতাকর্মীরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। একপর্যায়ে মাহবুর রহমান চরম ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের পায়ের জুতা খুলে নাজমুল করিমের দিকে উঁচিয়ে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান সাধারণ সম্পাদক।

​"দুর্দিনের কর্মী হয়ে কেন টাকা দেব?" — বিস্ফোরক মাহবুর রহমান

​কমিটি গঠনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও 'কমিটি বাণিজ্য' এর অভিযোগ এনে সভাপতি পদপ্রার্থী মাহবুর রহমান সরাসরি আঙুল তুলেছেন সাধারণ সম্পাদকের দিকে। নিজের অবস্থানের পক্ষে তিনি বলেন, "আমি দীর্ঘ এক বছর ধরে ওনার (নাজমুল করিম) পেছনে কমিটির অনুমোদনের জন্য ঘুরছি। তিনি আজ দেব, কাল দেব বলে শুধু সময়ক্ষেপণ করছেন। আজও যখন আমি ওনার কাছে গেলাম, তিনি আমার কাছে কমিটির কাগজের বিনিময়ে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন।"

​তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি জানতে চাইলাম টাকা কেন দিতে হবে? আমি তো দলের দুর্দিনের কর্মী। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এত দিন ধরে রাজনীতি করেছি। আমাকে কেন কমিটি আনতে টাকা দিতে হবে? এসব ন্যায্য কথা বলতে গেলেই ওনারা হট্টগোল সৃষ্টি করেন।

​মাহবুর রহমানের দাবি, বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান সাহেব ইতিমধ্যে শিবপুর ইউনিয়ন কমিটির কাগজে অনুমোদন দিয়ে রেখেছেন। শুধু নাজমুল করিমের স্বাক্ষরটা বাকি রয়েছে, যা দিতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গড়িমসি করছেন।

এদিকে নাজমুল করিম নিজের ফেইসবুক পোস্টে বলেন, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় রাস্তায় আমাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একটি দুষ্কৃতকারী পক্ষ কারোর ইন্ধনে হামলা করে। আমি হাই কমান্ডকে এই বিষয়ে অবগত করেছি। থানায় মামলা করতে গেলে প্রায় তিন ঘণ্টা বসে থাকার পরও ওসি মামলা নেয়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমিই যদি থানায় এসে এমন অবস্থায় পড়ি তাহলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থায় আছে সেটা অনুমান করা যায়।

​তৃণমূল রাজনীতিতে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

​ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নবীনগর উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কর্মীই বলছেন, দলের এই কঠিন সময়ে যেখানে ঐক্য প্রয়োজন, সেখানে পদ ও টাকার জন্য নেতাদের এই প্রকাশ্য কোন্দল এবং জুতা প্রদর্শনী দলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের কমিটি ঝুলে থাকা এবং নেতাদের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার কারণেই এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

​শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির এই কমিটি জট এবং দুই নেতার মধ্যকার এই প্রকাশ্য বিরোধের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। দলটির হাই কমান্ড এই বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কি না, তা নিয়ে মুখিয়ে আছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়