নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৬ ঘণ্টা আগে

বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএমপি

ঢাকা নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা আরো কার্যকর করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পরিচালনা করছে সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস)। এ ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের মৌলিক তথ্য নিবন্ধন, সংরণ ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারে ডিএমপি ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা থানা থেকে সফটওয়্যারভিত্তিক সিআইএমএস কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে। ২০১৭ সালে এটি রাজধানীর সব থানায় সম্প্রসারিত হয় এবং ২০১৯ সালে নাগরিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে চালু করা হয় সিআইএমএস মোবাইল অ্যাপ। বর্তমানে সিআইএমএস ডাটাবেজে প্রায় ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৫০ লাখেরও বেশি নাগরিকের তথ্য সংরতি রয়েছে। এ কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে বসবাসরত সব নাগরিকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিআইএমএসের মাধ্যমে নাগরিকদের সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য সংরণ করা হয়, যা বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করে। একইসঙ্গে অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি শনাক্তকরণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় যাচাই এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার সহজ হয়। ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে সিআইএমএস নিবন্ধন ফরম পাওয়া যায়। নাগরিকরা ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে পারবেন। ফরম জমা দেওয়ার আগে নিজের কাছে একটি ফটোকপি সংরণ রাখা উত্তম।

ডিএমপির প্রতিটি থানা একাধিক বিটে বিভক্ত এবং প্রতিটি বিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার রয়েছেন। প্রয়োজনে নাগরিকরা সরাসরি বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশি সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন। ঠিকানা পরিবর্তন হলে নতুন ঠিকানার সংশ্লিষ্ট থানায় পুনরায় নিবন্ধন করতে হবে। সিআইএমএসে নিবন্ধনের মাধ্যমে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন, ফলে অপরাধী বা প্রতারকদের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং বাড়িওয়ালাও অযথা হয়রানির ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকেন। অন্যদিকে ভাড়াটিয়ারা সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান, প্রয়োজনে দ্রুত আইনগত সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন এবং পরিচয় যাচাইয়ের েেত্রও সুবিধা লাভ করেন। সিআইএমএস ডাটাবেজ অপরাধ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে পলাতক অপরাধী শনাক্ত, সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য যাচাই এবং অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। একইসঙ্গে বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হচ্ছে এবং জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপদ, স্মার্ট ও অপরাধমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে রাজধানীর সব বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যকে সিআইএমএসে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়