কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

ফুটো দিয়ে বৃষ্টি পড়ে গরমে অতিষ্ট: কাউখালীতে ভবন সংকটে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ টিনের ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রায় দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে এভাবে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জরাজীর্ণ ভবন ও জলজট দুর্ভোগ বিদ্যালয়টির টিনের চালার ঘরগুলো অতিরিক্ত পুরনো হয়ে জং ধরে ছিদ্র হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে এবং কাঁদাপানিতে একাকার হয়ে যায় মাটির তৈরি শ্রেণিকক্ষের মেঝে। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শুধু শ্রেণিকক্ষই নয়, স্কুলের খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য পানিতেই তা খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও পাকা ভবনের আকুতি বিদ্যালয়ের নিয়মিত সমাবেশ শেষে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। মাটির ফ্লোর ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায় এবং সেখানে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এছাড়া প্রচণ্ড সূর্যের তাপে টিনশেড ঘরের ভেতরের গরমে শিক্ষার্থীরা প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। অন্যান্য বিদ্যালয়ের মতো একটি পাকা ভবনে ফ্যানের নিচে বসে পাঠগ্রহণের আকুল দাবি জানিয়েছে তারা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাফল্যের চিত্র বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী শাহাবুদ্দিন তালুকদার এলাকাবাসীর সহায়তায় দেড় একর জায়গার ওপর এই টিনশেড ঘরটি তৈরি করেন। পরে ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে জরাজীর্ণ মাত্র ৭টি কক্ষে ১৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ চলছে। নানা প্রতিকূলতার পরও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এসএসসিতে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে।

সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক রাজ্জাক তালুকদার বলেন, অতীতে তারা যেভাবে টিনের ঘরে পড়াশোনা করেছেন, আজও তাদের সন্তানরা একই জরাজীর্ণ পরিবেশে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়ে আধুনিক উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

শিক্ষকদের উদ্বেগ ও প্রশাসনিক আশ্বাস বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহানারা আক্তার জানান, জরাজীর্ণ ঘরের কারণে বর্ষা বা ঝড়-বৃষ্টি হলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। নতুন ভবনের জন্য বারবার আবেদন করেও সুরাহা হয়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এই স্কুলের ফলাফলের মান অনেক ভালো। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পড়ালেখার মান ধরে রাখতে বিদ্যালয়টিতে জরুরি ভিত্তিতে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়