বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, সর্বস্বান্ত ৮ পরিবার

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসা ও রেস্টুরেন্টে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রবাসে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর এলাকার আজম খান ও তাঁর ছেলে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। তাঁদের প্রতারণার শিকার হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানার অন্তত ৮টি পরিবার মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

গত রোববার দুপুরে বানীগ্রাম বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা।

প্রতারণার শিকার ও প্রবাস ফেরত ভুক্তভোগীরা হলেন বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের পূর্ব বৈলগাও এলাকার মৌলভী নরুদ্দাহারের ছেলে মোঃ রায়হান, রুস্তুম আলীর ছেলে মোঃ ফোরকান, রাতারকুল এলাকার বখতিয়ার, হুমায়ুন, সিয়াম উদ্দিন, আনোয়ারা উপজেলার বটতলী এলাকার ইফতাহাদুল ইসলাম রাসেল, সাতকানিয়ার মোঃ তারেক এবং রাউজানের মোঃ তাসবির। ভুক্তভোগীদের মধ্যে মোঃ রায়হানকে তাঁর পরিবার ১২ লাখ টাকা প্রদান করে দেশে জীবিত ফিরিয়ে এনেছেন। অন্যদিকে মোঃ বখতিয়ার, মোঃ তারেক ও হুমায়ুন অতিরিক্ত অর্থ দণ্ড গুনে প্রবাস থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। তবে মোঃ ফোরকান সৌদি আরবে অবস্থান করলেও বিগত ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোঃ রায়হানের বোন আয়েশা ছিদ্দিকা রিনা জানান, ভালো বেতনের কথা বলে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত ভিসার পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদি একটি ভিসা দেওয়া হয়। সৌদি পৌঁছানোর পর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে রায়হানের টাকাপয়সা ও ব্যবহৃত মালামাল আটকে রেখে মারধর ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে তাঁকে গুম করে হত্যার হুমকি দিয়ে দফায় দফায় টাকা দাবি করা হয়। প্রথম ধাপে দেড় লাখ, দ্বিতীয় ধাপে ২ লাখ এবং সর্বশেষ ৩য় ধাপে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার পর গত ৮ জুলাই রায়হানকে পরিধেয় কাপড়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, অনেককে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে আকামা বা কাজ না দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে এবং আটকে রেখে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল সৌদি আরব থেকে হোয়াটসঅ্যাপের এক বার্তায় সকল দাবি অস্বীকার করে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।

সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন কামাল জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছে। এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমীন জানান, প্রবাসে নিয়ে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়