গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
বন্যায় গো-চারণভূমি ডুবে দুধ উৎপাদনে ভাটা, সংকটে খামারিরা

উজানের ঢল আর প্রবল বর্ষণে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের করতোয়া, বড়াল ও হুরাসাগরসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। এর ফলে শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলের সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরের আটটি উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর গো-চারণ ভূমি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। সবুজ বাথান ও ঘাসের জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে গবাদি পশু নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
অর্ধেকের নিচে দুধের উৎপাদন, খামারিদের মাথায় হাত কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকটে পড়ে সিরাজগঞ্জ ও আশপাশের বাথানগুলোতে দুধের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। শাহজাদপুরের পোতাজিয়া গ্রামের ৩ শত গাভীর খামারি মোমতাজ উদ্দিন জানান, বর্ষার আগে বাথানে কাঁচা ঘাস খাইয়ে দিনে যেখানে প্রায় ১০ মণ দুধ পাওয়া যেত, এখন খাদ্যসংকটের কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মণে। অর্থাৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর পাশাপাশি গো-খাদ্য ও দানাদার খাবারের আকাশছোঁয়া দামে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা।
বিকল্প খাদ্য সাইলেজ ও সরকারি সহায়তার আশ্বাস শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিল্লাল হোসেন ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক জানান, চারণভূমি ডুবে যাওয়া এবং বাজার চড়া হওয়ায় খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দুধের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে খামারিদের সাইলেজ (সংরক্ষিত কাঁচা ঘাস) খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গবাদি পশুর রোগবালাই ঠেকাতে বিনামূল্যে খুরা রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বিনামূল্যে গো-খাদ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
পিডিএস/এমএইউ









































