নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৫ ঘণ্টা আগে

ঢামেক-ঢাবি এলাকায় হাঁটুপানি, ভোগান্তিতে রোগী ও শিক্ষার্থীরা

ভারী বর্ষণের এক দিন পরও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, পলাশীর মোড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন এলাকায় এখনো হাঁটুসমান পানি জমে আছে। পানি না নামায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন ও শিক্ষার্থীরা। তবে আজিমপুর-লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর এবং নীলক্ষেত-নিউমার্কেট এলাকায় পানি নেমে গেলেও জনবহুল এসব এলাকায় নিত্যদিনের তুলনায় মানুষের ভিড় কিছুটা কম দেখা গেছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকা হাঁটুসমান পানির নিচে তলিয়ে আছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নোংরা পানি মাড়িয়ে হাসপাতালে প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে। এতে অনেকের পোশাক ভিজে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে চলাচল করছেন। চিকিৎসা নিতে আসা জসিম নামে এক রোগী বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে পানিতে ভিজে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছি। ডাক্তার দেখিয়ে আবারও পানি মাড়িয়ে হাসপাতাল থেকে বের হতে হয়েছে। লালবাগ এলাকা থেকে বহির্বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসা আলেহা বেগম বলেন, বয়সের কারণে হাঁটাচলা করতেই কষ্ট হয়। তার ওপর হাসপাতালের সামনে প্রচুর পানি জমে রয়েছে। অনেক ভয় নিয়ে পানি পার হয়ে ভেতরে ঢুকেছি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এমন দুর্ভোগে পড়তে হবে, ভাবিনি। এদিকে পলাশীর মোড় থেকে পূর্ব দিকে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের ফটক পর্যন্ত এখনো হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। তলিয়ে আছে এসএম হলের মাঠও। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের পানি নেমে গেলেও ঢাবির গণিত ভবন থেকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের সামনের অংশ পর্যন্ত পানি জমে আছে। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটিও পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানি জমে থাকায় আজিমপুর-নীলক্ষেত অঞ্চলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতার কারণে ভেজা পোশাক নিয়েই তাদের ক্লাসে অংশ নিতে হয়েছে।

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী তিলোত্তমা ইতি বলেন, বিগত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। আজিমপুরের অবস্থাও ভিন্ন নয়। এখানে বসবাসকারী মানুষের পাশাপাশি ইডেন কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতা ও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সভাপতি ফাতিন ইশরাক।

তিনি বলেন, কুয়েত মৈত্রী, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শহীদুল্লাহ, সলিমুল্লাহ মুসলিম ও জহুরুল হক হল এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব ও সিটি করপোরেশনের গাফিলতির কারণে বছরের পর বছর তাদের এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের অনেক বৈদ্যুতিক তার অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে, যা পানিকে বিদ্যুতায়িত করতে পারে। এমন ঝুঁকিতে মাসখানেক আগে একটি কুকুর মারা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই ঝুঁকিতে রয়েছেন। গতকাল কুয়েত মৈত্রী হলে খাবার পানি ছিল না, ক্যানটিনও বন্ধ ছিল।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, আজ পরীক্ষা বন্ধ রাখা হলেও ক্লাস চালু ছিল। ফলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনকারী একটি বাস পানিতে আটকে বিকল হয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীদের ভ্যানে করে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা না করে সংকট সমাধানে প্রশাসনের ব্যর্থতা চরম উদাসীনতার পরিচয়। অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, খেলার মাঠ এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোয় ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পানি জমে থাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়