বরিশাল ও মাদারীপুর প্রতিনিধি

  ৫ ঘণ্টা আগে

বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রী

বছরে ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

সেনাবাহিনীর প্রতি দেশের জনগণের আস্থা গভীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি পরিবারের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে এ কার্ড দেওয়া হবে এবং আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের চার মাস পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকালই প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে যান তারেক রহমান। সফরকে ঘিরে বরিশালজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। সফরের শুরুতে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একযোগে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা যে বাজেট পেয়েছিলাম, সেটি ছিল আগের সরকারের বাজেট। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিল না। তবে কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে যে নতুন বাজেট উপস্থাপন করেছি, সেখানে এ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমরা প্রথমে গ্রামের খেটে খাওয়া, অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার এ সুবিধা পাবে। এরপর ধাপে ধাপে আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। সে হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে প্রায় ৭ হাজার পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। বিএনপি বিশ্বাস করে, নারীদের শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না, অর্থনৈতিকভাবেও সক্ষম করে তুলতে হবে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার মেয়েদের প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছিল। এবার আমরা নারীদের জন্য অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা নিয়েছি। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফল করবে তাদের জন্য বৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন বিএনপি সরকারের প্রয়োজন। জনগণ পাশে থাকলে ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আমরা এ দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। সব সময় আমি একটি কথা বলি, বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। এ জনগণের সমর্থন যতক্ষণ বিএনপির কাছে থাকবে, যতক্ষণ বিএনপির পাশে জনগণ থাকবে বিএনপি কোনো বাধা মানবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে এবং সারা বাংলাদেশের দল-মত নির্বিশেষে শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে, ধর্ম-মত নির্বিশেষে সব মানুষের কাছে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, দেশকে পুনর্গঠন করার সমর্থন ব্যক্ত করে আমার বক্তব্য আমি শেষ করছি। ইনশাল্লাহ আবারও আসব আপনাদের এলাকায়। আবারও আপনাদের সঙ্গে কথা হবে।

এরপর দুপুর সোয়া ২টায় বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন-সংলগ্ন সাগরদী খালের দুই পাড়ে একযোগে সাড়ে ৩০০ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মিলে যুদ্ধ করে আমরা এদেশ স্বাধীন করেছি। মাত্র কয়েকদিন আগে স্বৈরাচারকে এদেশ থেকে বিদায় করেছি। সব শ্রেণি-পেশার, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে হটিয়েছে। এভাবে সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ ও মানুষের জন্য ভালো কাজ করি, তাহলে সবাই উপকৃত হব।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নিজেদের পরিবেশ নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে। নিজেদের ঘর যদি নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তাহলে ঘর নোংরা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, পাড়া কিংবা দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখি এবং পরিবেশের প্রতি যত্নশীল না হই, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরাই। অন্য দেশের সুন্দর পরিবেশ দেখে আফসোস করব অথচ নিজেদের দেশের পরিবেশ নষ্ট করব- এটা হতে পারে না। তিনি বলেন, গাছের চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। স্থানীয়দের প্রতি আমার অনুরোধ, যারা চারা রোপণ করেছেন তারা সবাই মিলে গাছগুলোর যত্ন নেবেন। গাছগুলো বড় হলে শুধু স্থানীয়রাই নন, এখানে আসা সব মানুষ উপকৃত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবহমান ও গুরুত্বপূর্ণ সাগরদী খালের পরিচর্যা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। খালের দুই পাড়ে বসবাসকারী সবাইকে এর যত্ন নিতে হবে। খালে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। স্থানীয়রা নিজেরা যেমন খালে কিছু ফেলবেন না, তেমনি অন্যদেরও নিরুৎসাহিত করবেন। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত বিনেই পানির বোতল, টিস্যুসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলতে হবে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকেও আরো প্রচারণা চালাতে হবে।

গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে দাঁড়িয়ে দুটি প্লাস্টিকের বোতল ভাসতে লক্ষ করেন তারেক রহমান। তিনি এ বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এই দেখুন, খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল ভাসছে। আপনাদের বাড়িতে যদি পাঁচ-সাতজন মানুষ থাকে, তার মধ্যে একজন যদি সারা দিন বাড়ি পরিষ্কার করে আর বাকি সবাই ময়লা করে, তাহলে ওই বাড়ি পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। গুছিয়ে রাখাও সম্ভব নয়। দেশটাও তো ঘরের মতোই। মাত্র কয়েকজন যদি শুধু পরিষ্কার করে আর সবাই নোংরা করতে থাকে, তাহলে এদেশটাকেও পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব। আমাদের সকলকে মিলেই পরিষ্কার রাখতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হবে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক হয়ে বরিশালের গৌরনদীর ভূরঘাটা এলাকায় পৌঁছান তারেক রহমান। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। পরে গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বরিশাল নগরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের শুভেচ্ছার মধ্য দিয়ে দুপুর ২টায় তার গাড়িবহর বরিশাল নগরের বান্দর রোডে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ভাঙ্গা ওয়ের মাদারীপুরের শিবচর অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। নেতাকে একনজর দেখতে ও শুভেচ্ছা জানাতে সকাল থেকেই মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা পাচ্চর গোলচক্কর এলাকায় মহাসড়কের পাশে জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন।

শিবচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাওন চৌধুরী বলেন, ‘এখানে উপস্থিত হওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না। নেতাকর্মীদের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকেই আমরা জড়ো হয়েছি। মূলত প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতেই এ অপেক্ষা।’ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর আমাদের প্রিয় নেতা, বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী আমাদের এলাকার ওপর দিয়ে বরিশাল যাবেন। আমরা তাকে দেখার জন্য এখানে এসেছি। অনেক নেতাকর্মী এখানে তাকে দেখার জন্য এসে।

শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা পদ্মা সেতু দিয়ে মাদারীপুরে হয়ে বরিশাল যাবেন- এ কারণেই নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে এসেছেন। তাকে একঝলক দেখার আশায় সবাই অপেক্ষা করছেন। ভোর থেকে আমাদের শিবচর উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখানে উপস্থিত হয়েছেন প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়