মান নিশ্চিতে সরকারি উদ্যোগ প্রশংসনীয়

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মাননিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে যখন প্রতিনিয়তই আমরা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছিÑ ঠিক সে মুহূর্তেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বললেন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণ প্রকল্পে কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করতে সাহসের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো বাধার কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অবশ্যই টেকসই ও মানসম্পন্ন হতে হবে। নিম্নমানের কাজ, অনিয়ম-দুর্নীতি কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। আমার বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে বিচক্ষণ, মেধাবী ও যোগ্য প্রকৌশলীরা আছেন। তারা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছেন আর এর মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে।

মন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলা যায়, তার এ বক্তব্য দেশের মানুষকে অনেকটা সাহস জুগিয়েছে। স্বপ্নের সমুদ্রে সাঁতার কাটার প্রেরণা জুগিয়েছে। কেননা দেশের প্রায় সব সাধারণ মানুষ এ রকম স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। তারা বিশ্বাস করে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলে তাতের পারিবারিক জীবনের উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। তারা বিশ্বাস করেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষই দুর্নীতিকে পছন্দ করেন না আর দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করেন। তারা আরো বিশ্বাস করেন, উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই দুর্নীতিবাজ নন। বেশির ভাগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আর সে কারণেই একসময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ উন্নয়ন প্রশ্নে আজ বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই ঈর্ষণীয় হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কারণে সেই অর্জনকে অনেকটা কালিমালিপ্ত করেছে। সম্ভবত তাদের উদ্দেশেই মন্ত্রীর এই সতর্ক বার্তা। এই সতর্ক বার্তার জন্য জনগণের পক্ষ থেকে তাকে সাধুবাদ জানানোই যায়।

তথ্য মতে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর মাঠপর্যায়ে উন্নয়নমূলক কাজের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণে ৬৪ জেলার নির্বাহী প্রকৌশল দফতরে মাননিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগতমান পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে এখানে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন, তারা সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণÑ এমনটাই প্রত্যাশা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিবেচনায় রাখবে। কেননা আমরা ঘর পোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পাই।

পেশাদার ঠিকাদার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আরো বলেছেন, ঠিকাদারদের নিম্নমানের কাজের জন্য শাস্তির আওতায় আনতে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মনিটরিং ব্যবস্থাকেও জোরদার করা হয়েছে। আমরা মনে করি, দুর্নীতিকে প্রতিহত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশে একটি উদাহরণ তৈরিতে সক্ষম। যদি কার্যক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায়। আমরা আশা করতেই পারি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপগুলো অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। আর সে কারণেই আমরা এর সাফল্যও কামনা করি। পদক্ষেপ সফলতা পেলে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে, যা এ দেশের মানুষের অনেক দিনের লালিত স্বপ্ন ও প্রত্যাশা।

 

"