ডা. আসিফ ইকবাল, ডিভিএম (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ)

  ০২ জুলাই, ২০২৬

বর্ষা মৌসুমে পোলট্রি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা

রোগ প্রতিরোধেই টেকসই সমাধান

বর্ষাকাল বাংলাদেশের প্রকৃতিকে নতুন রূপে সাজালেও পোলট্রি শিল্পের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। টানা বৃষ্টিপাত, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, তাপমাত্রার ওঠানামা, ভেজা লিটার ও পরিবেশগত চাপ খামারের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এর ফলে পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমেই পোলট্রির রোগব্যাধির প্রকোপ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যা খামারিদের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়।

অতিরিক্ত আর্দ্রতায় লিটার ভিজে গেলে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীর বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে অ্যামোনিয়া গ্যাসের মাত্রা বেড়ে পাখির শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ককসিডিওসিস, গামবোরো, নিউক্যাসল ডিজিজ, শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সংক্রমণ, ছত্রাকজনিত ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তাই বর্ষাকালে খামারের লিটার শুকনো রাখা, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ এবং কঠোর বায়োসিকিউরিটি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতাই বর্ষাকালে পোলট্রি খামারকে নিরাপদ ও লাভজনক রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ককসিডিওসিস:

বর্ষাকালে পোলট্রিতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ককসিডিওসিস, যা মূলত ভেজা লিটার ও অপরিষ্কার পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় লিটার আর্দ্র থাকলে ককসিডিয়া পরজীবী দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আক্রান্ত পাখির রক্তমিশ্রিত বা পাতলা পায়খানা, দুর্বলতা, খাদ্যে অরুচি ও ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। ব্রয়লার খামারে এটি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর।

প্রতিরোধে খামারের লিটার সবসময় শুকনা রাখতে হবে, নিয়মিত উল্টে ভেজা অংশ বদলে দিতে হবে এবং ড্রিংকার থেকে পানি লিকেজ বন্ধ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করে আর্দ্রতা ও অ্যামোনিয়া কমাতে হবে। অতিরিক্ত মুরগি এক শেডে রাখা যাবে না এবং ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী ককসিডিওস্ট্যাট ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি খামারে কঠোর বায়োসিকিউরিটি বজায় রাখা, প্রবেশপথে ফুটবাথ ব্যবহার এবং ব্যাচ শেষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।

রক্তমিশ্রিত পায়খানা বা ঝিমানোর লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত পাখি দ্রুত আলাদা করে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্ষাকালেও ককসিডিওসিস নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।

গামবোরো বা ইনফেকশাস বার্সাল ডিজিজ:

বর্ষাকালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ হলো গামবোরো বা ইনফেকশাস বার্সাল ডিজিজ। এটি মূলত কম বয়সী মুরগির রোগ। গামবোরো আক্রান্ত পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়, ফলে অন্যান্য রোগও সহজে আক্রমণ করতে পারে। আমার মতে, গামবোরোকে শুধুমাত্র একটি রোগ হিসেবে নয়, বরং অন্যান্য রোগের দরজা খুলে দেওয়ার মতো একটি সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত।

নিউক্যাসল ডিজিজ বা রানীক্ষেত রোগ:

বাংলাদেশের পোলট্রি খাতে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক এই ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ ঘটলে অল্প সময়ের মধ্যে পুরো খামারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত পাখির মধ্যে শ্বাসকষ্ট, সবুজ ডায়রিয়া, চুনা পায়খানা, স্নায়বিক সমস্যা, ঘাড় বেঁকে যাওয়া এবং হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায়। টিকাদান কর্মসূচিতে সামান্য ত্রুটিও অনেক সময় বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

খামারিদের উদ্দেশে রানীক্ষেত প্রতিরোধের কিছু উপায়:

রানীক্ষেত রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে পালন করা। ১-৫ দিনের বাচ্চাকে বিসিআরডিভি টিকা চোখে এক ফোঁটা দিতে হবে, ২১ দিনে বুস্টার ডোজ এবং ২ মাসে আরডিভি টিকা দিতে হবে। লেয়ার ও ব্রিডার মুরগিতে প্রতি ৬ মাস অন্তর টিকা প্রয়োজন। টিকার কোল্ড চেইন বজায় রাখা ও শুধুমাত্র সুস্থ মুরগিকে টিকা দেওয়া জরুরি। খামারে কঠোর বায়োসিকিউরিটি মানতে হবে। শেডে ফুটবাথ ব্যবহার, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং বন্য পাখি, ইঁদুর ও প্রাণী দূরে রাখতে হবে। যানবাহন জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

মাইকোপ্লাজমোসিস বা ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজ:

বর্ষাকালে শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়। বিশেষ করে মাইকোপ্লাজমোসিস বা ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজ এবং কোলিব্যাসিলোসিস প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায়। খামারে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে এবং আর্দ্রতা বেড়ে গেলে এসব রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত পাখির কাশি, হাঁচি, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, নাক দিয়ে স্রাব বের হওয়া এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।

এই রোগ প্রতিরোধের কার্যকরী কিছু উপায় রয়েছে যেমন: প্রথমত, শেডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। শেডের ভেতরে যেন কোনোভাবেই দূষিত বাতাস বা ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাস জমতে না পারে, সেদিকে তীক্ষè নজর রাখতে হবে। খামারের পর্দা ব্যবস্থাপনা এমনভাবে করতে হবে যেন শেডের ভেতর সবসময় পর্যাপ্ত তাজা বাতাস প্রবেশ করতে পারে এবং দূষিত বাতাস সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। মাইকোপ্লাজমোসিস যেহেতু একটি ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিটেড ডিজিজ এবং এটি আক্রান্ত প্যারেন্টস বা মুরগির মাধ্যমে ডিম হয়ে বাচ্চাতেও ছড়াতে পারে, তাই হ্যাচারি থেকে একদিন বয়সী বাচ্চা সংগ্রহের সময় ব্রিডার ফ্লকটি মাইকোপ্লাজমা-মুক্ত কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখার জন্য সবসময় তাজা ও সুষম খাদ্যের পাশাপাশি ই-কোলাই বা অন্যান্য জীবাণুমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে এবং পানির ও খাবারের পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

ইনফেকশাস কোরাইজা:

ইনফেকশাস কোরাইজা বর্ষাকালে লেয়ার ও সোনালি খামারে একটি সাধারণ সমস্যা। রোগটির ফলে মুখমণ্ডল ফুলে যায়, চোখ ও নাক দিয়ে স্রাব বের হয় এবং খাদ্য গ্রহণ কমে যায়। ডিম উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেক খামারি প্রথম দিকে রোগটি সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারায় পরে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন।

খামারিদের উদ্দেশে ইনফেকশাস কোরাইজা প্রতিরোধে করণীয়গুলো হলো: কোরাইজা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে কিল্ড (মৃত) ভ্যাকসিন প্রদান করা। লেয়ার বা সোনালি মুরগির ক্ষেত্রে ডিম আসার আগে অন্তত দুটি ডোজ সম্পন্ন করতে হয়। সাধারণত ৬-৮ সপ্তাহ বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৪-১৬ সপ্তাহ বয়সে (অথবা প্রথম ডোজের ৪-৬ সপ্তাহ পর) দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। খামারের স্থানীয় রোগের হিস্ট্রি অনুযায়ী ভ্যাকসিনের স্ট্রেইন নির্বাচন করা জরুরি। ‘অল-ইন, অল-আউট’ পদ্ধতির কঠোর প্রয়োগ দরকার। নতুন ও পুরোনো মুরগি কোনোভাবেই একসাথে রাখা যাবে না। পানির লাইনের বায়োফিল্ম দূরীকরণ ও স্যানিটেশন প্রয়োজন। বর্ষাকালে কোরাইজার ব্যাকটেরিয়া প্রধানত পানির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। নিপল ড্রিংকার বা পানির পাইপের ভেতরে যে আঠালো স্তর (বায়োফিল্ম) তৈরি হয়, সেখানে ব্যাকটেরিয়া লুকিয়ে থাকে। নিয়মিত সঠিক মাত্রায় ওয়াটার স্যানিটাইজার এবং এসিডিফায়ার ব্যবহার করে পানির পিএইচ মান ৫.৫ থেকে ৬.০ এর মধ্যে রাখতে হবে, যাতে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে না পারে। খামারে যদি আগে থেকেই মাইকোপ্লাজমা বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা থাকে, তবে কোরাইজার আক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। তাই কোরাইজা ঠেকাতে হলে সমান্তরালভাবে খামারকে মাইকোপ্লাজম্যামুক্ত রাখার পদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্ষাকালে ছত্রাকজনিত রোগ (অ্যাসপারজিলোসিস):

বর্ষাকালে অ্যাসপারজিলোসিসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়, রোগটি ব্রুডার নিউমোনিয়া নামেও পরিচিত। ভেজা খাদ্য, স্যাঁতসেঁতে গুদামঘর এবং ছত্রাকযুক্ত লিটার এই রোগের প্রধান উৎস। আক্রান্ত পাখির শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ করে বাচ্চা মুরগির ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক হতে পারে। বর্ষাকালে খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর তাই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মুরগির খাবার অবশ্যই শুকনো, স্যাঁতসেঁতে মুক্ত এবং আলো-বাতাস চলাচলের সুবিধাযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। খাবারের বস্তা সরাসরি মেঝেতে না রেখে কাঠের মাচার (প্যালেট) ওপর রাখতে হবে এবং দেয়াল থেকে অন্তত এক ফুট দূরে রাখতে হবে। বর্ষাকালে খাবারের সঙ্গে মানসম্মত ‘টক্সিন বাইন্ডার’ বা ‘মোল্ড ইনহিবিটর’ ব্যবহার করতে হবে, যাতে খাবারে ছত্রাক জন্মাতে না পারে। বেশি দিনের পুরোনো খাবার মুরগিকে দেওয়া যাবে না। খাবারে দলা বা চাকা বেঁধে গেলে কিংবা ছত্রাকের দুর্গন্ধ পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে হবে।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের মধ্যে সালমোনেলোসিস, কোলিব্যাসিলোসিস এবং ফাউল কলেরা বর্ষাকালে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। দূষিত পানি, অপরিষ্কার পরিবেশ এবং দুর্বল বায়োসিকিউরিটি এসব রোগ বিস্তারে ভূমিকা রাখে। অনেক সময় খামারিরা রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় না করে এলোমেলোভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন, যা ভবিষ্যতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের মতো বড় সমস্যার জন্ম দেয়।

বার্ড ফ্লু (এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা):

ভাইরাসজনিত রোগ বার্ড ফ্লু নিয়েও বর্ষাকালে সতর্ক থাকতে হয়। যদিও এটি প্রতিদিনের সমস্যা নয়, তবে একবার সংক্রমণ ঘটলে ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুর উপস্থিতি পুনরায় শনাক্ত হওয়ায় খামারিদের আরো সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

বর্ষাকালে পোলট্রি খামারে রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো উন্নত ব্যবস্থাপনা। অনেক খামারি রোগ দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেন, অথচ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিলে অধিকাংশ সমস্যা এড়ানো সম্ভব। প্রথমত, লিটার সবসময় শুকনো রাখতে হবে, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। খামারে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় কঠোর বায়োসিকিউরিটি মানতে হবে।

টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় টিকা সংরক্ষণ বা প্রয়োগে ভুলের কারণে কার্যকারিতা কমে যায়, তাই গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ; বর্ষায় খাদ্য যেন ভিজে না যায় এবং ছত্রাকমুক্ত থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

অসুস্থ পাখি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক রোগ নির্ণয়, ল্যাব টেস্ট ও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা বজায় রাখলে বর্ষাকালেও পোলট্রি খামার নিরাপদ রাখা সম্ভব।

খামারিদের মধ্যে একটি সাধারণ ভুল হলো সামান্য সমস্যাতেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বা অদক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োগ করা। এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রোগ নিরাময় বাধাগ্রস্ত করে এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করে। তাই সঠিক পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রোগ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা জরুরি। পোলট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য বায়োসিকিউরিটি, টিকাদান এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শই নিরাপদ ও লাভজনক খামারের মূল ভিত্তি। সবসময় সচেতন থাকা প্রয়োজন খামারিদের জন্য।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়