reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০১ জুলাই, ২০২৬

নতুন প্রশাসন নিয়ে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রশাসনিক পর্ষদে সাম্প্রতিক রদবদলের পর নতুন প্রশাসনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের ভাবনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে নতুন প্রশাসন গতিশীল ভূমিকা রাখবে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা। বিশেষ করে একাডেমিক ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি, ক্লাসরুমের পরিবেশ উন্নয়ন, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং ক্যাম্পাসে সুশাসন নিশ্চিতকরণের মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা নতুন প্রশাসনের শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপ দেখতে চান। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন সায়েম

ক্যাম্পাস উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার প্রত্যাশা

নাঈম উদ্দিন রাফি (ডিবিএ, ১৬ তম ব্যাচ)

আমাদের ক্যাম্পাস মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এখনো অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। পাশাপাশি একাডেমিক বিল্ডিং-৩ এর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে এগোচ্ছে, যা মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মূল লক্ষ্য চাকরি হলেও, দেশের স্বনামধন্য কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করে নিয়মিত জব ফেয়ার আয়োজন করা যায় না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ও ক্যারিয়ার সংযোগের দিকটিও দুর্বল থেকে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, নতুন প্রশাসন এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবগুলো সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিধিত্ব করে। তাই আমরা প্রত্যাশা করি, নতুন প্রশাসন ক্লাবগুলোর জন্য যথাযথ বাজেট বরাদ্দ করবে এবং ক্লাবগুলোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করবে।

বিভাগীয় সংকট ও অ্যাকাডেমিক উন্নয়ন

শারারা বিনতে জামান (বিএমবি বিভাগ, ১৮তম ব্যাচ)

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নতুন প্রশাসনের প্রতি আমার বেশ কিছু প্রত্যাশা রয়েছে, যা পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো পূরণ করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যা থেকে শুরু করে পরিবহন, অবকাঠামো, বিভিন্ন বিভাগের প্রশাসনিক জটিলতা এবং গবেষণার মানোন্নয়নে নতুন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই। বিশেষ করে আমার বিভাগ বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজির ক্লাসরুম সংকট, ল্যাব ও শিক্ষক স্বল্পতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চেয়ারম্যান নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে প্রশাসনের শিক্ষার্থীবান্ধব ভূমিকা প্রত্যাশা করছি। এই বিভাগে চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে যে দীর্ঘদিনের সংকট রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের যে দাবি ছিল, তা যেন নতুন প্রশাসন গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বিভাগের গবেষণা খাতের উন্নয়নও দেখতে চাই। পরিশেষে আশা করি, নতুন প্রশাসন আমাদের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। নতুন প্রশাসনের এই সহযোগিতা আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়কেও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে।

দুর্নীতিমুক্ত ও সুন্দর ক্যাম্পাসের প্রত্যাশা

মো. শহিদুল ইসলাম (আইন বিভাগ, ১৮তম ব্যাচ)

মানুষ দুর্নীতিবাজ হয় তখনই, যখন আমরা তাদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে দুর্নীতি করতে সাহায্য করতে থাকি। নতুন উপাচার্য (ভিসি) মহোদয়ের কাছে আমার প্রধান প্রত্যাশা থাকবে যে, তিনি যেন তার চারপাশে থাকা মানুষদের কর্মকাণ্ডের প্রতি কড়া নজর রাখেন এবং পূর্ববর্তী উপাচার্যদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে যান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে কিছু উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন এটাই প্রত্যাশা। আমি আশা করি, এর মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের প্রত্যাশা

আয়েশা আক্তার (ইংরেজি বিভাগ, ১৮তম ব্যাচ)

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চাই প্রশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

একাডেমিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, আবাসন ও পরিবহন সংকট নিরসন এবং একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। প্রশাসনের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, যেহেতু ইংরেজি বিভাগ প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে এখনো কোনো ‘ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’ গড়ে ওঠেনি, তাই নতুন প্রশাসন যেন দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন প্রশাসনের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও সুনামের ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যাবে।

অবকাঠামোগত সংকট ও বৈষম্য দূর করার দাবি

শেখ মুশফিক নূর (ইইই বিভাগ, ২০তম ব্যাচ)

নোবিপ্রবির গবেষণা খাতে ঈর্ষণীয় সাফল্য থাকলেও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অন্যতম প্রধান বিভাগ ‘ইইই’ চরম বৈষম্য ও অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছে।

বিভাগের নবম ব্যাচ চলমান থাকলেও পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি কম্পিউটার ল্যাবেও তীব্র যন্ত্রপাতি সংকট বিদ্যমান। অন্যদিকে প্রশাসনিক ভবনের পঞ্চম তলায় লিফট না থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত তীব্র গরমে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন। ছাদের অতিরিক্ত তাপমাত্রায় এসি ছাড়াই ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে ‘একাডেমিক ভবন ৩’ মেগাপ্রজেক্ট দ্রুত বাস্তবায়ন করে ইইই বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য নতুন প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

শিক্ষার্থীবান্ধব হল ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা

বৃষ্টি নাথ (পরিসংখ্যান বিভাগ, ২০তম ব্যাচ)

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ডাইনিংয়ের খাবারের মান তুলনামূলকভাবে বেশ নাজুক। সেখানে পরিচ্ছন্নতার অভাব যেমন স্পষ্ট, তেমনি খাবারের উচ্চমূল্যের বিপরীতে পরিমাণও কম। এছাড়া রয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট। একাডেমিক ভবনগুলোর কাছাকাছি হওয়ায় ছাত্রীদের একটি বড় অংশ দুপুরে বিবি খাদিজা হলের ডাইনিংয়ে খাবার খেতে যান। কিন্তু সেখানকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অপরিচ্ছন্নতা সাধারণ ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত হতাশ করছে। নতুন প্রশাসনের কাছে আমার প্রত্যাশা ডাইনিংয়ে ভর্তুকি বৃদ্ধি করে খাবারের মান নিশ্চিত করা এবং হলগুলোর সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়