তয়বা খানম, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম
তারুণ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতার জাগরণ

নিজেকে ভালোবাসতে শরীরের যত্ন নেওয়ার বিকল্প নেই। শরীরের অসুস্থতায় আমাদের শরীরের দেওয়া সংকেতগুলো বুঝতে হবে। জানতে এবং জানাতে হলে আমাদের সুস্থ থাকার নিত্য নতুন জ্ঞান আহরণ করা আবশ্যক। সচেতন যুব সমাজ তৈরি লক্ষে ণঅঝউ (ুড়ঁঃয অপঃরড়হ ভড়ৎ ঝঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ) কর্তৃক আয়োজিত এবং ঋড়ঁহফধঃরড়হ ভড়ৎ ড়িসবহ ঢ়ড়ংংরনরষরঃরবং-এর সহযোগিতায় জেলা সমাজসেবা কার্যালয় অডিটরিয়াম, চট্টগ্রামে ২৫ জন যুব সদস্যের সম্পৃক্ততায় ১০ জুন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল পাঁচটা অবধি ব্রেস্ট ক্যানসার ও সার্ভিক্যাল ক্যানসার বিষয়ক সচেতনতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ঊধৎষু ফবঃবপঃরড়হ, ংধাব ষরাবং উক্ত প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে এই সেশন পরিচালিত হয়। উক্ত সেশনে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নাফিসা হোসাইন ব্রেস্ট ও জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেন। জরায়ু ক্যানসার নারী স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকিস্বরূপ। প্রতিবছর ৮২৬৮ জন আক্রান্ত হয়ে ৫০০০ জন মারা যাচ্ছেন। ৬৪ মিলিয়ন নারী এর ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, জরায়ু ক্যানসার নির্মূলে শিশুদের এইচপিভি টিকা সুনিশ্চিত করতে হবে। এই টিকাগুলো নিয়ে অনেকটা গুজব ছড়ানোর কারণে অনেক কিশোরী এই টিকাগুলো নেওয়া থেকে বিরত থাকে। প্রকৃতঅর্থে এই টিকা কিশোরীদের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে না বরং উপকারী। নারীদের ভয়, লজ্জা উপেক্ষা করে যেকোনো সমস্যায় মন খুলে কথা বলতে হবে। কেননা যে কোনো সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা গেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজতর হয়। তাই নারীদের লজ্জার ট্যাবু ভাঙতে এই সেশন ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি আরো বলেন, এই ব্রেস্ট ও সার্ভিক্যাল ক্যানসার কোনো মরণব্যাধি রোগ নয়, বরং সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধে অনুসরণ করে এর থেকে ফিরে আসা সম্ভব। এই সেশন আমাদের ভয় এবং আতঙ্ক থেকে বের হয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
আলোচনার মধ্যে একই সঙ্গে প্রশ্ন উত্তর পর্ব ছিল। অংশগ্রহণকৃত যুব সদস্যরা নানা প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানকে পাকাপোক্ত করার সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় কাজের মাধ্যমে তারা মাঠ পর্যায়ে এই সচেতনতা তৈরিতে কি ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হতে পারে এবং তাদের নানা বিষয়ে অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। যাতে করে এই জায়গা থেকে সচেতন হয়ে তারাও মাঠ পর্যায়ে দক্ষতার সঙ্গে অন্যদের নতুন কিছু শেখাতে, জানাতে ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে পারে। দলীয় কাজের মাধ্যমে তারা রপ্ত করতে পারে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রমের কৌশল, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ সমূহ যা তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উক্ত সেশনে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের ডিস্টিক ম্যানেজার মো. সাজেদুল আনোয়ার ভূঁইয়া নেতৃত্ব বিকাশে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনা করেন। নেতৃত্ব কি, নেতার গুণাবলী ও নেতৃত্ব কীভাবে বিকশিত হয় সে বিষয়েও তার অসাধারণ আলোচনা এই সেশনের বিশেষ আকর্ষণ বলা যায়। তার দুর্দান্ত আলোচনার সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিল। তিনি একই সঙ্গে যুব সদস্যদের মানবিক কাজে নৈতিক জায়গা থেকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তার সেশন শেষ করেন।
একই সঙ্গে চঝঞঈ-এর প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক সরস্বতী সরকার নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা ও কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য বার্তা প্রচারে নানা বিষয়ে আলোকপাত করেন। উক্ত সেশন জুড়ে উপস্থিত যুব সদস্যরা উপলব্ধি করতে পারেন যে, ভয় কিংবা লজ্জা নয় আজকের সচেতনতাই আগামী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
এভাবেই ণঅঝউ তারুণ্যের সক্ষমতা বাড়াতে যুব সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে যোগ্য করে সমাজে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য দক্ষ করে তুলছেন। এভাবেই মূলত সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ সংগঠন সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে কার্যকরী ভূমিকা রেখে চলেছে। এভাবেই নিত্যনতুন জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে আমাদের যুব সমাজ সমাজের উন্নয়নে অগ্রগনি ভূমিকা রাখবে।
"









































