ছামিউল চৌধুরী, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  ৮ ঘণ্টা আগে

বাবুই পাখির অভয়ারণ্য পাবিপ্রবির স্বাধীনতা হল

বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে নেমে আসছে সন্ধ্যা। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যেমন মানুষ ঘরে ফেরে, ঠিক তেমনি সূর্যাস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে আপন ঠিকানায় ফিরতে শুরু করে ছোট্ট ছোট্ট পাখিরাও ফেরে তাদের আপন আলয়ে। সূর্যাস্তের আগমুহূর্তে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলের চারপাশ যেন রূপ নেয় অজস্র বাবুই পাখির এক মিলনমেলায়। শত শত বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তাদের এই সম্মিলিত কণ্ঠস্বর প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের মন ছুঁয়ে যায়।

বাংলাদেশের অন্যতম ছোট ও পরিশ্রমী পাখি বাবুই। বাবুই পাখির আবাসস্থল হয়ে থাকে নারকেল, তাল এবং সুপারি গাছ যা গ্রামাঞ্চলে অধিক হারে দেখা যেত; কিন্তু তা এখন বিলুপ্ত প্রায়। নিখুঁত শৈল্পিক কারুকাজে ঝুলন্ত বাসা তৈরির জন্য এ পাখি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ঘাস, খড়, তালপাতা কিংবা অন্যান্য উদ্ভিদের আঁশ দিয়ে তৈরি তাদের বাসা যেন প্রকৃতির এক অনন্য শিল্পকর্ম। দক্ষতা ও নিখুঁত বুননের কারণে বাবুই পাখিকে প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ কারিগর বলেও অভিহিত করা হয়।

বাবুই পাখি সাধারণত শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। অতিরিক্ত শব্দ বা মানুষের কোলাহল এড়িয়ে নিরাপদ স্থানেই তারা আশ্রয় নেয়। ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ বাড়িতে চলে যাওয়ায় স্বাধীনতা হল ও এর আশপাশের পরিবেশ হয়ে ওঠে অনেকটাই নির্জন ও শান্ত। আর এই অনুকূল পরিবেশই বাবুই পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আকৃষ্ট করেছে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই বিভিন্ন দিক থেকে উড়ে এসে স্বাধীনতা হলের গেট, ভবনের ছাদ এবং চারপাশের কদম, আম, কাঁঠাল, বন কাঠাল, কৃষ্ণচূড়া ও অন্যান্য গাছে বসে তারা কিচিরমিচির করতে থাকে। মনে হয় যেন সারাদিনের গল্প তারা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে। রাতের অন্ধকার নেমে এলে ধীরে ধীরে থেমে যায় সেই কোলাহল। আবার ভোর হওয়ার আগেই খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন ছোট্ট বাবুই পাখিরা।

শুধু সৌন্দর্য নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থেও বাবুই পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় খেয়ে তারা কৃষি ও পরিবেশের জন্য উপকার করে। তাই এ ধরনের পাখির নিরাপদ আবাস সংরক্ষণ জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমান সময়ে বাবুই পাখি আগের মতো খুব বেশি দেখা যায় না। অথচ তাদের বাসা তৈরির দক্ষতা সত্যিই বিস্ময়কর। সন্ধ্যা হলেই শত শত বাবুই পাখির কিচিরমিচির শুনে মনে হয় প্রকৃতি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আমরা চাই, কেউ যেন তাদের বিরক্ত না করে বা কোনো ধরনের ক্ষতি না করে।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই দৃশ্য দেখতে অনেক শিক্ষার্থী হলের সামনে এসে দাঁড়ান। কেউ ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। তবে আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি পাখিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সবাই সচেতন থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ পরিবেশ ও গাছপালা সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতেও বাবুই পাখিরা এখানে নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।

প্রকৃতির এই ছোট্ট শিল্পীদের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে পাবিপ্রবির স্বাধীনতা হল। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে এই সবুজ ক্যাম্পাস ভবিষ্যতেও বাবুই পাখিসহ নানা প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়