বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস
বিশ্বকাপ ফুটবল সমকালীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক ঘটনা। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের জনজীবনে যে উৎসবমুখর আবহ গড়ে উঠছে, তা আবারও প্রমাণ করছে ফুটবল এ দেশের মানুষের কাছে নিছক খেলা নয়; এটি আবেগ, পরিচয় এবং বৈশ্বিক সংযোগের এক শক্তিশালী মাধ্যম। বাংলাদেশের শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে শুরু হয়েছে ফুটবল উৎসবের উদ্মাদনা। বাজারে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের জার্সি, পতাকা, ব্যানার, স্টিকার ও সমর্থক সামগ্রী। কোন দেশ চ্যাম্পিয়ন হবে এ বিষয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নানাভাবে প্রকাশ পাচ্ছে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

আনন্দ ও বিষাদের বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপ ফুটবল বরাবরের মতোই রঙিন। এ অন্যকে খোঁচা মেরে কথা বলাতেই যেন সমুদ্র সমান আনন্দ পাওয়া যায়! এতেই মেতে থাকে স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিসহ সব জায়গা। একজন আর্জেন্টাইন সাপোর্টার হিসেবে একাধিকবার তীরে এসে তরী ডোবার পর যখন ২০২২ সালে এসে সেই সোনালি ট্রফি মেসির হাতে ধরা দিলো, তারপর থেকে কোনো উচ্ছ্বাসই আর বেশি মনে হয়নি, ফুটবলে চাওয়ারও কিছু নেই। একজন আর্জেন্টাইন সাপোর্টার হিসেবে এই বিশ্বকাপ আমার কাছে যেমন সুখের, তেমনি দুঃখেরও প্রতিচ্ছবি। এই বিশ্বকাপই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ, তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় মেসি অবসর নিবেন। যা বিশ্বকাপের উন্মাদনার আড়ালে এক করুণ অনুভূতির সৃষ্টি করছে। ?ফুটবলে যেকোনো কিছুই হতে পারে, তবে চাই ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন আর্জেন্টাইন শিবিরের হাতেই থাকে। আবারও সেই উদযাপন হোক মেসির হাতেই। আবারও মেসি মেসি ধ্বনিতে মুখরিত হোক স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে ফুটবলপ্রেমী সকলেই।
হুমায়ুন আহমেদ নাইম
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ২য় বর্ষ, ২য় সেমিস্টার।
বিশ্বকাপে মেসিকে দেখাই প্রাপ্তি
আমি যখন ৫ম শ্রেণিতে পড়ি, তখন ২০১৪ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিশ্বকাপে মেসি এবং আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আমাকে ভীষণভাবে বিমোহিত করেছিল। যদিও ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনায় মেসির নৈপুণ্য দেখার কারণে তার প্রতি আমার আবেগ ও ভালোবাসা ২০১৪ বিশ্বকাপের আগেই তৈরি হয়েছিল।
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজয়ের পর মেসির বিমর্ষ মুখে ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’-এর পুরস্কার হাতে নিয়ে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্যটি আমার মনে গভীর দাগ কেটে যায়। এরপর সবসময় প্রত্যাশা ছিল যেন মেসির হাতে ট্রফি দেখতে পাই। ?কিন্তু ২০১৫ ও ২০১৬ সালে লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মিশনে পরপর দুইবার ফাইনালে উঠেও চিলির কাছে পরাজয় সব আশা আকাঙ্ক্ষাকে মাটিচাপা দিয়ে দিয়েছিল। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, মেসি হয়তো দেশের হয়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই ট্রফিটা আর কখনোই জিততে পারবেন না। এরপর যখন তিনি জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার ঘোষণা দিলেন, তখন আর্জেন্টিনার একজন ডাইহার্ড সমর্থক হিসেবে খবরটা আমার কাছে মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ার মতো ছিল।
কিন্তু বিধাতার পরিকল্পনা হয়তো ভিন্ন ছিল। এরপর লিওনেল স্কালোনির হাত ধরে আর্জেন্টিনা যেন এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। একে একে ২০২১ কোপা আমেরিকা জয়, ফিনালিসিমা ট্রফি জয়-এসব যেন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে স্বপ্নপূরণের মতো ছিল। তারপর ২০২২ বিশ্বকাপে মেসি এবং তার আর্জেন্টিনা যা করে দেখাল, তা এককথায় রূপকথাকেও হার মানায়।
সমালোচকেরা যখন একটি বিশ্বকাপের মাপকাঠিতে মেসির শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছিল, তখন ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে মেসি তাদের সব সমালোচনার জবাব দিয়ে দেন এবং সমালোচকদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
একজন মেসি সমর্থক হিসেবে আমি আমার চাওয়ার শতভাগ পেয়েছি। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি আর আর্জেন্টিনার কাছে আমার তেমন কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। মেসিকে মাঠে দেখতে পারাটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এখন যতদিন সম্ভব, ততদিন প্রাণভরে মেসিকে উপভোগ করতে চাই।
জুটন সরকার
শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টার।
গ্রান্দে ব্রাজিল, গ্রান্দে স্বপ্ন
শৈল্পিক, নান্দনিক ফুটবলের আতুরঘর ব্রাজিল। আর আমি সেই ব্রাজিল ফুটবল টিমের এবং নেইমারের অনেক বড় ভক্ত। নেইমারকে দেখে ফুটবল বুঝতে শিখেছি, নেইমারকে দেখে ফুটবলকে ভালোবাসতে শিখেছি। ২০১১ তে প্রথম নেইমারের খেলা দেখার পর ২০১৩ তে যখন স্পেনকে হারিয়ে ব্রাজিল কনফেডারেশন কাপ জিতল, সেই ম্যাচে নেইমার একটি গোলও করেছিল এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়ার হয়েছিল। ঠিক তখন থেকেই একটা স্বপ্ন দেখতাম আর সেটা হলো নেইমারের হাতে সোনালি ট্রফিটা দেখা। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ সালের বিশ্বকাপগুলো হতাশায় কাটলেও এবার আবারও স্বপ্ন দেখছি ব্রাজিল হেক্সা মিশন সম্পন্ন করবে এবং সেইসঙ্গে আমাদের পোস্টারবয় নেইমারের হাতে সোনালি ট্রফি উঠবে, সেই সোনালি ট্রফিটাও হয়তো সেদিন মনে মনে বলবে আজ আমি সার্থক। এবার আমার নিজের বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তথা আমার নিজ ক্যাম্পাসে বন্ধুবান্ধব, বড়ভাই, ছোটভাইদের নিয়ে একসঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখব। অন্যরকম একটা ভালোলাগা, উন্মাদনা কাজ করছে। এই উন্মাদনা সারাবিশ্বজুড়েই। আশা রাখছি এই উন্মাদনার মধ্য দিয়েই ব্রাজিল এবার মিশন হেক্সা সম্পন্ন করবে। গ্রান্দে ব্রাজিল।
প্রিয়ন্ত সরকার
শিক্ষার্থী, সঙ্গীত বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার।
স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ সুযোগ
ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশে না হলেও বাংলাদেশের প্রতিটি বাসা থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবই যেন সেই ফুটবল স্টেডিয়ামে পরিণত হয়। যে যার পছন্দের খেলোয়াড় নিয়ে অন্যদের হারানোর সর্বোচ্চ যুক্তি দিয়ে থাকে। সারাদেশের বেশিরভাগ যখন ব্রাজিল আর্জেন্টিনার ভক্ত। ঠিক তখন আমি সবকিছুর বিপরীতে রোনালদো ভক্ত, সঙ্গে পর্তুগাল। রোনালদো বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের একজন উজ্জ্বল তারকা, কি নেই তার ঝুলিতে! ক্লাব ফুটবলে তিনি প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন, অর্জন করেছেন ব্যক্তিগত অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। শুধু নেই, যেটা সবাই অর্জন করতে চায় একটি ট্রফি। রোনালদো বহুবার বলেছেন, পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা তার সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটি। কেন জানি সেটা অপূর্ণ রয়েই গেছে এখনো। প্রতিটা ফুটবল ভক্তেরই স্বপ্ন থাকল নিজের প্রিয় খেলোয়াড় যেন সেই সোনালি ট্রফি ছুঁতে পারে। রোনালদো ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, তাই এবারই শেষ সময় এসেছে আবার তার কাছে, নতুন ইতিহাস গড়ার। নতুন করে ইতিহাসে তাকে জায়গা করে নেওয়ার। স্বপ্ন একটাই লক্ষও একটাই ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬। এই মিশনে আমার মতো তার ফ্যানেরা তার পাশে থেকে উৎসাহ জোগাবে তাকে, আশা বেধে রাখি তার হাতে উঠবে এবারের সেই বিশ্ব ফিফা বিশ্বকাপ।
মুনতাসির মামুন
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ২য় বর্ষ ২য় সেমিস্টার।
"









































