বাবা : মেয়েদের জীবনের প্রথম ও সেরা নায়ক

বাবা শব্দটা খুব ছোট কিন্তু আবেগ জড়িত একটি শব্দ। এ শব্দে জড়িয়ে থাকে প্রতিটি মেয়ের সবচেয়ে বড় নির্ভরশীলতার অনন্য জায়গা। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর ও পবিত্র বন্ধনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। কন্যাদের জীবনে বাবা হলেন তাদের প্রথম নায়ক। অন্যদিকে, কন্যাসন্তানরা বাবার জীবনের শ্রেষ্ঠ রহমত, যাদের একচিলতে মিষ্টি হাসিতে বাবারা সারা দিনের ক্লান্তি এক নিমিষেই ভুলে যান। বাবারা মেয়েদের কাছে কতটা আবেগে জড়িয়ে আছে, এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করেছেন। তা তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী উম্মে সালমা-
বাবার সাথে আমার পথচলা
বাবার প্রথম সন্তান হওয়ায় বাবার পিতৃত্বের সব রঙের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ হয়েছে। পরের সন্তানের কাছে তিনি হয়তো একজন অভিজ্ঞ ও গোছানো অভিভাবক। কিন্তু আমার কাছে তিনি সেই তরুণ বাবা, যিনি আমার হাত ধরে নিজেই প্রথমবার বাবা হয়ে উঠেছিলেন। আমার প্রতিটি প্রথম সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে ছিল তার জীবনেরও প্রথমবার কোনো সন্তানের জন্য গর্বে বুক ফুলিয়ে হাসার আনন্দ। তাই বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা শুধু শাসনের নয়, বরং একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠার এক যৌথ স্মৃতিকথা। প্রথম সন্তান হিসেবে জীবনের বহু হোঁচট খেয়ে আমি দেখেছি, চারপাশের চেনা পৃথিবীটা যখন চট করে রঙ বদলায়, তখনো বাবার বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা একই রকম শক্ত আর বিশ্বস্ত থাকে।
কাজী মালিহা আকতার
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।
বাবা : আমার স্বপ্নের পথপ্রদর্শক
আমার বাবা একজন কৃষক। ছোটবেলা থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি আমাকে বড় করেছেন। জীবনের নানা সীমাবদ্ধতা ও সংগ্রামের মধ্যেও কখনো আমার কোনো ইচ্ছাকে অপূর্ণ রাখেননি। একজন সন্তানের জীবনে বাবা যেমন আশ্রয়, আমার বাবাও তেমনি আমার সবচেয়ে বড় ভরসা এবং অনুপ্রেরণা। আমার প্রথম শিক্ষকও আমার বাবা। বইয়ের বাইরের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলো আমি তার কাছ থেকেই পেয়েছি। সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলা ও আচরণ করা সবই তিনি আমাকে শিখিয়েছেন। বাবার একটি কথা সবসময় আমাকে অনুপ্রাণিত করে ‘পরিশ্রম করার পরে হারলে কখনো আফসোস করো না; ভাববে পরিশ্রমে কোথাও ঘাটতি ছিল।’ তার ত্যাগ, পরিশ্রম এবং আদর্শই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আল্লাহ তাকে সুস্থ, সুন্দর ও দীর্ঘ জীবন দান করুন।
সাদিয়া সুলতানা রিমি
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
আস্থার আকাশ ও শীতল বটবৃক্ষের ছায়া
বাবা মানে মাথার ওপর আস্থার এক টুকরো আকাশ এবং শীতল বটবৃক্ষের ছায়া। আমার জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে বাবার রক্তের ঘামের চিহ্ন অপরিহার্য। এমনকি কঠিন সময়ে পরীক্ষার নার্ভাসনেস কাটানোর সবচেয়ে বড় মেডিসিনও আমার বাবা। বাবা দিবসের গিফট বলতে আমি মনে করি আমিই আমার বাবার সবচেয়ে বড় গিফট। তাই আমার পরীক্ষার ভালো রেজাল্ট ও সুন্দর আচরণই হোক তার জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় হয়তো বাবাকে আলাদা করে ধন্যবাদ বলা হয়ে ওঠে না। তবে দূর থেকে তার খোঁজ নেওয়া ও মুখে স্বর্গীয় হাসি ফোটানোর চেষ্টা করার মূল্য অপরিসীম। পৃথিবীর সব বাবাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও অবিরাম ভালোবাসা। তবে শুধু একদিনের ভালোবাসা নয়, প্রতিদিন আমি আমার আব্বুকে ভীষণ ভালোবাসি।
মাহজাবীন তাসনীম রুহী
শিক্ষার্থী, এম. সি. কলেজ, সিলেট।
পার্থিব জীবনের প্রথম পরিচয়দাতা বাবা
পৃথিবীতে আসার পর সন্তানের একটি পরিচয়ের প্রয়োজন হয়। ঠিক সেই সময়ে যে ব্যক্তি আমাদেরকে পরিচয় দান করেন তিনি আমাদের বাবা। বাবার পরিচয়েই আমরা পরিচিত হই এই পৃথিবীর বুকে। তবে এই যে পরিচয় প্রদান করা আমাদেরকে এটি কোনো দয়া করা নয় আমাদের উপর। এই পরিচয় দেওয়া আমাদেরকে দুনিয়াতে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য। দুনিয়ার বাকি সব পরিচয় আমাদেরকে ছেড়ে গেলেও এই ঠিকানা, এই আশ্রয় আর এই মানবজীবনের স্বীকৃতির পরিচয় আমাদের কখনো ছেড়ে যায় না। বাবার পরিচয়ে আমরা সবাই পরিচিত হই অর্থাৎ বাবার ভালোবাসা, সম্মান, মর্যাদার সমপরিমাণ অংশীদার আমরাও হই। জন্মের পর আমাদের নিজস্ব কোনো পরিচয় থাকে না সেই সময়েও এই বাবার দেওয়া পরিচয়ে আমরা সমাজের কাছে পরিচিত হই। তাই বাবাই আমাদের প্রথম পরিচয়।
আফিয়া আলম
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
আমার গল্পে বাবা-ই সেরা
বাবা তো বাবা-ই! কিছু শব্দ কিংবা বাক্য দিয়ে উনাদের সম্পর্কে বর্ণনা করা যায় না। বাবাকে বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করলেও মূলত বাবা হলো শিকড়! আমার চোখে আমার বাবা একজন যোদ্ধা, শাসক, বন্ধু এবং বিশেষভাবে আমার সন্তানের মতো।
যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে আজ অব্দি তাকে বিশ্রামহীন পরিশ্রম করতে দেখি। অসুস্থতাকে লুকিয়ে পরিবারও পরিজনকে আগলে রাখতে আজো তিনি ব্যস্ত।
সন্তানদের শাসন করে নিজেকে কড়া শাসক প্রমাণ করার পাশাপাশি, সন্তানের সঙ্গে গল্পের আসর জমিয়ে তিনি প্রমাণ করে দেন, তিনি শুধু শাসক নন বন্ধুও বটে! আমার জন্য সবচেয়ে গর্বের বিষয়ে হলো, তিনি একজন সৎ, ন্যায়বান ও এক কথার মানুষ! তার সমতুল্য আমার চোখে আর কেউ নেই। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বৃক্ষের শিকড়গুলো! দিবস কিংবা আলাদা দিনে নয়, প্রতি দিনই তারা আমাদের কাছে স্পেশাল হয়ে থাকুক!
রেশমী আকতার
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।
বাবার নিঃস্বার্থ পরিশ্রমই, আমার মুখের হাসি
এক কঠিন অস্তিত্বের অবয়বের নাম ‘বাবা’। যার সারাটা জীবন কেটে যায় ‘বাবা’ শব্দের ভার বহন করতে করতে, সন্তানের মুখে হাসি ফুটাতে আর একবুক ভালোবাসার পরশ এঁকে দিতে। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের নেই কোনো চাহিদা, অনুরাগ আর অভিব্যক্তি। তার নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের কথা বলতে গেলে উঠে আসে পুরোনো দিনের সেই স্মৃতির কথা। যেখানে লুকিয়ে আছে কষ্টের শরীরে ভিজে থাকা ঘামে হাসি ফুটিয়ে রাখা নির্মল চেহারা। নিজের সকল শখ তিনি বিসর্জন দিয়ে দেন সন্তানের লালন-পালনে, তার ছোট ছোট আবদার পূরণে আর উচ্চস্বপ্ন পূরণে। ক্লান্ত, শ্রান্ত সেই শরীর যখন বার্ধক্যে গিয়ে ঠেকে তখন বাবার সেই সুঠাম দেহ বলিরেখাযুক্ত ত্বকে পরিণত হয়। কণ্ঠের সেই তেজ নিস্তেজ হতে থাকে সন্তানকে তার সর্বোচ্চ দিতে দিতে। তবুও তিনি তার শেষ নিঃশ্বাসেও সন্তানকে আঁকড়ে তার মুখে হাসি টানতে দ্বিধাবোধ করেন না।
জান্নাতুল মাওয়া (রিফাত)
শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ।
বাবা যখন জীবনের নীরব নায়ক
বাবা শুধু একটি শব্দ নয়, এর পেছনে জড়িয়ে আছে হাজারো ত্যাগ-তিতিক্ষা, দায়িত্ব আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ইতিহাস। নিজের কষ্ট, ক্লান্তি আর না-পাওয়া ইচ্ছাগুলো আড়াল করে তিনি সবসময় সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যান। গ্রামের ছোট্ট পরিবেশ থেকে শহরে এসে পড়ালেখা করার সুযোগ, আমার ছোট-বড় সব আবদার পূরণ করা এবং আমাকে স্বপ্ন দেখার সাহস দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান এই মানুষটার। জন্মের পর থেকে বাবাকে সবসময় কাছে পেয়েছি, কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনার জন্য তার কাছ থেকে দূরে চলে আসতে হয়েছে। তবুও তার একটাই স্বপ্ন- তার মেয়ে একদিন অনেক বড় হবে। আমরাও হয়তো বাবাকে কখনো বলতে পারি না কতটা ভালোবাসি, কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
সানজিদা আফরিন মেঘলা
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ।
বাবা-ই অনুপ্রেরণা, সন্তানের মেরুদণ্ড
বাবা! খুব ছোট একটা শব্দ কিন্তু এর ব্যাপ্তি বিশাল। সন্তানের কাছে বাবারা হলো বটবৃক্ষের ছায়ার মতো। কখনো শাসন, কখনো আবার আদর, কখনো না প্রকাশ করা গভীর ভালোবাসায় যিনি নিজেকে উজাড় করে দেন তার মহত্ত্ব কখনো পরিমাপযোগ্য নয়। বাবাদের ভালোবাসায় যে শ্রম, ঘাম আর চিন্তার গভীরতা লুকিয়ে থাকে সচরাচর সেটা আমরা দেখিনা। তাই সন্তানের সফলতা অর্জনের পর বাবাকে কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। কারণ তার ত্যাগ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণাই সন্তানের সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয়। আমার কাছে বাবা মানে অনুপ্রেরণা। যার বাবা নেই, সেই-ই বুঝতে পারে মেরুদণ্ডহীন জীবনের কতটা বেদনা। তখন জীবন যেন শক্তিহীন হয়ে পড়ে, পেছনে তাকালে শুধু ধূধূ মরুভূমি, আগলে রাখার মতো কেউ নেই। আল্লাহ পৃথিবীর সকল বাবাদের হায়াত বৃদ্ধি করে দিন, তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখুন এটাই কামনা।
নায়িমা আখতার
শিক্ষার্থী, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
আমার বাবা, আমার আদর্শ
বাবা নামক শব্দটি প্রতিটি সন্তানের সাহস, স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। সন্তানের সুখ, নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একজন বাবা নীরবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান। তার ত্যাগ, দায়িত্ববোধ কিংবা ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশ পায় না, কিন্তু পরিবারের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে থাকে তার অসামান্য অবদান। আমার জীবনেও বাবার পরিচয় অনেক গভীর। তিনি ছিলেন আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং অনুপ্রেরণার উৎস। জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার শেখানো সততা, দায়িত্ববোধ, পরিশ্রম ও মানবিকতার শিক্ষা আমাকে পথ দেখিয়েছে। তার আদর্শ আজও আমার প্রতিটি পদক্ষেপে বেঁচে আছে। তাই বাবা দিবসে আমি শুধু একজন বাবাকেই নয়, আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুকেও স্মরণ করি। এই বিশেষ দিনে আমার বাবা-সহ পৃথিবীর সকল বাবার নীরব আত্মত্যাগ ও অবদানকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।
জান্নাতুল শুভ্রা
শিক্ষার্থী, ভাওয়াল বদরে আলম
সরকারি কলেজ, গাজীপুর।
ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার উৎস বাবা
বাবা এক সাহসী যোদ্ধা, যিনি তার লড়াইটা নিরবে চালিয়ে যান। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি হাসিমুখে সব কষ্ট সহ্য করেন। তিনি আমাদের মাথার উপরের ছাদ। আমাদের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য যার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য তিনি নিজের সবটুকু সুখ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। আমার কাছে আমার বাবা একজন সুপার হিরো, আমার অনুপ্রেরণার উৎস। আমি ছোটবেলা থেকেই ভীষণ আহ্লাদি ছিলাম। আমার ছোট ছোট সব আবদার, আহ্লাদিপনা সব এখনো বাবার কাছেই করা হয়। বাবা আমার জন্য বটবৃক্ষের মতো। এমন কোনো কাজ নেই যা তিনি করতে পারেন না, এইদিকটাই আমাকে সব সময় ভীষণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছে। আমার জীবনের আদর্শ আমার বাবা। আমিও বাবার মতো এমন পরোপকারী, ধৈর্যশীল, পরিশ্রমী এবং আত্মমর্যাদা সম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়তে চাই।
নাঈমা ইসলাম নিম্মি
শিক্ষার্থী, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ।
"









































