মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকৃতির রূপালী সুঁইচোরা : ‘বাঁশপাতি’

প্রকৃতির এক অপরূপ ও নিখুঁত সৃষ্টি ছোট্ট এই পাখিটি। ইংরেজিতে এর নাম Green Bee-eater, আর বাংলায় আমরা একে চিনি বাঁশপাতি বা সবুজ সুঁইচোরা নামে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Merops orientalis। নামের সার্থকতা বজায় রেখেই পাখিটির পুরো অবয়ব জুড়ে রয়েছে সতেজ সবুজের অপরূপ ছোঁয়া, আর সেই সঙ্গে তার স্বভাবও বেশ চঞ্চল ও চমৎকার। নামের শেষে ‘সুঁইচোরা’ থাকলেও সে আসলেই কোনো সুঁই চুরি করে কি না তা জানা নেই, তবে তার সরু ও ধারালো ঠোঁটখানা কিন্তু অবিকল একটি সুঁইয়ের মতোই তীক্ষè ও নিখুঁত।
আমাদের গ্রামীণ প্রকৃতি ও বনাঞ্চলে এই দৃষ্টিনন্দন পাখিটির দেখা মেলা যেন এক পরম পাওয়া। কখনো বিদ্যুতের তারে, কখনো বাঁশের কঞ্চিতে আবার কখনো বা গাছের মগডালে বসে শিকারের তীক্ষè নজর রাখছে পাখিটি।
গ্রামের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও দেখা যায় এদের বিচরণ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলদিঘি সংলগ্ন এলাকায়ও ধরা পড়েছে বাঁশপাতির এমন কিছু মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত। ছবিগুলো ক্যামেরাবন্দি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তসলিম মাহমুদ।
সুঁইচোরার পুরো শরীর উজ্জ্বল চকচকে সবুজ পালকে ঢাকা যা রোদের আলোয় ঠিক পান্না-সবুজের মতো দ্যুতি ছড়ায়। এর চোখের ওপর দিয়ে কাজলটানা রেখার মতো একটি নিখুঁত কালো দাগ চলে গেছে। গলার ঠিক নিচে রয়েছে চমৎকার একটি কালো নেকলেস বা কণ্ঠীর মতো আবরণ যা এর সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ওড়ার সময় ডানার নিচের সোনালি-তামাটে আভা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টকটকে গাঢ় লাল চোখের মণির এই পাখিটির লেজের মাঝখানের দুটি পালক সুঁচের মতো বেশ লম্বা ও বাড়তি অংশ হিসেবে বেরিয়ে থাকে। আর মূলত এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর নামকরণ হয়েছে ‘সুঁইচোরা’।
"









































