ইসরায়েলি সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহর ড্রোন কারখানা!

লেবানন সীমান্তে শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকার মাঝেই এক বিস্ফোরক দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জুন গ্রামে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক বিশাল ড্রোন কারখানার সন্ধান পেয়েছে তারা।
ইসরায়েলের দাবি, সীমান্ত থেকে মাত্র চার মাইল দূরে এই সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সে ইরানি প্রযুক্তির বিপজ্জনক 'কামিকাজে' বা আত্মঘাতী ড্রোন তৈরি করছিল হিজবুল্লাহ।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যখন একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চলছে, ঠিক তখনই এই গোপন সুড়ঙ্গ আবিষ্কার নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ডেকে আনছে।
কূটনৈতিক টেবিলে ট্রাম্পের ধাক্কা: সুইজারল্যান্ডে হওয়া শান্তি আলোচনার পর ইরানকে ঘিরে যখন ৬০ দিনের একটি নতুন কূটনৈতিক উইন্ডো তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই বাগড়া দিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো কোনো দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মারমুখী মন্তব্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় চলতে থাকা আলোচনা সাময়িকভাবে থমকে গেছে। তবে মধ্যস্থতাকারীরা এখনো আশাবাদী যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
ইসরায়েলের অবস্থান: 'শান্তি বনাম নিরাপত্তা': ইসরায়েলের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ হামলা না চালালে তারাও যুদ্ধবিরতি মেনে চলবেন। তবে হিজবুল্লাহর এই গোপন সামরিক তৎপরতার পর তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে যে 'নিরাপত্তা বলয়' ইসরায়েল তৈরি করেছে, সেখান থেকে সেনা সরানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
বিশ্লেষকদের চোখে: ইসরায়েলের সামনে 'শাঁখের করাত': এই ড্রোন কারখানার আবিষ্কার তেল আবিবকে এক কঠিন কৌশলগত গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে। তারা যদি এই সুড়ঙ্গের জবাবে বড় কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে কাতার ও পাকিস্তানের কষ্টার্জিত শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাবে। আর যদি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তারা চুপ করে বসে থাকে, তবে ঘরের পাশেই হিজবুল্লাহকে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
আগামী ৬০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এই ড্রোন রহস্যের ওপর।









































