রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বিএমইউর ২৬৯ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ

রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানো এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বিভিন্ন বিভাগের ২৬৯ জন ফ্যাকাল্টি ও সিনিয়র চিকিৎসককে ‘ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিন’ বা প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ১০টি ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (২২ জুলাই) শহীদ ডা. মিল্টন হলে ১০ম ব্যাচের তিন দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার চর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় বিএমইউ-তে প্রথমবারের মতো ‘ওয়ার্ল্ড ইভিডেন্স-বেইসড হেলথকেয়ার ডে’ উদযাপন করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ‘এভিডেন্স অ্যাম্বাসেডর’ খেতাব অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
তিন দিনব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণে পিকো ফ্রেমওয়ার্ক, মেডিক্যাল অডিটের গুরুত্ব এবং ক্লিনিক্যাল অডিট সাইকেলের মতো আধুনিক ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পদ্ধতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ক্লিনিক্যাল প্রাকটিসে ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ রোগীর চিন্তা, আগ্রহসহ তার অধিকারের বিষয়ে চিকিৎসককে সর্বদা খেয়াল রাখতে হয়। চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এর কোনো বিকল্প নেই।
আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক নুরুন নাহার খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাহরীন আখতার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দীনে মুজাহিদ ফারুক ওসমানী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গবেষণা, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে যদি প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যকর করা যায়, তবে একটি ন্যায্য ও দক্ষ স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এটি একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় কমাবে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবাখাতে গুণগত পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত হবে, যা সাধারণ জনগণের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।









































