জান্নাতুল লামিশা, গণবিশ্ববিদ্যালয়

  ৯ ঘণ্টা আগে

উৎসবে রাঙানো দ্বিপ্রহর

জৈষ্ঠ্য মাস আসলেই প্রকৃতি যেন রং ও স্বাদের এক অনন্য ভাণ্ডার খুলে বসে। আম, জাম, কাঁঠাল লিচু, আনারস, লটকনসহ নানা ধরনের মৌসুমি ফলে ভরে ওঠে চারদিক। প্রকৃতির অফুরন্ত দানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত হলো মৌসুমি ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি(গবিসাস)-এর আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গবিসাস কার্যালয়ে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।

সকাল থেকেই গবিসাস কার্যালয়ে বসে মৌসুমের নানা ফলের পসরা। বাইরে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, আর ভেতরে পাকা ফলের মিষ্টি ঘ্রাণ। সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক ভিন্নরকম পরিবেশ। ব্যস্ততার ফাঁকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে উপভোগ করেন জ্যৈষ্ঠের ফলের স্বাদ ও আনন্দ। উৎসবে স্থান পায় দেশীয় বিভিন্ন ফল। সাজানো ফলের সমাহার যেমন চোখে আনন্দ দেয়, তেমনি স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলার ঋতুভিত্তিক খাদ্যসংস্কৃতির কথা। ফলের বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে উঠে আসে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং দেশীয় ফলের প্রতি নতুন করে আগ্রহ।

ফল উৎসবের পাশাপাশি গবিসাসের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার থেকে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপণ করা হয়। তার মাঝে ছিল ডালিম, মেহেদী, জামসহ নানা ধরনের গাছ। এ কর্মসূচি শুধু সবুজায়নের বার্তাই বহন করে না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

গবিসাসের এ আয়োজন কেবল ফল খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল মিলনমেলা, আড্ডা ও আনন্দ ভাগাভাগির একটি উপলক্ষ। এক ছাদের নিচে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

জ্যৈষ্ঠের মৌসুমি ফলকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসব স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনের মাঝেও প্রকৃতি, ঋতু ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বর্ষার মৃদু ছোঁয়া আর ভেতরে ফলের সুবাসে ভরা গবিসাস কার্যালয় যেন একদিনের জন্য হয়ে উঠেছিল জ্যৈষ্ঠের ছোট্ট এক উৎসব-প্রাঙ্গণ।

ফল উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন এবং রেজিস্ট্রার ওহেদুজ্জাম উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ঔষধি ও ফল গাছ রোপণ করে কর্মসূচি পালন করা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, গবিসাস প্রতিবছরই এমন দারুণ ভাবে ফল উৎসব এবং বৃক্ষ রোপণ করে থাকে। আসলে মৌসুমি ফল সবারই খাওয়া উচিত। প্রতিটা ফলে প্রতিটা মৌসুমের প্রতিষেধক থাকে। একই সাথে সবারই বৃক্ষ রোপণ করা উচিত। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ রোপণ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম নাই। গবিসাসের বাৎসরিক এসকল কার্যক্রম আসলেই প্রশংসনীয়।

গবিসাসের সভাপতি মোজাহিদুল নিরব বলেন, ‘সংবাদ চর্চার পাশাপাশি সুন্দর সবুজ ভবিষ্যত নিশ্চিত এবং দেশীয় ফলের ঐতিহ্য চর্চার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষের উপকারীতা এবং দেশীয় ফলের গুণাগুণ সম্পর্কে জানিয়ে সংবাদ প্রচারের মতোই পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের আয়োজনের লক্ষ্য। গবিসাসের চিরাচরিত এই আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যহত থাকবে এবং পাশাপাশি অন্যান্য সংগঠন এসব পরিবেশবান্ধব এবং দেশীয় ঐতিহ্যমূলক কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হবে বলে আশা করি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়