মো. আব্দুল্লাহ আলমামুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  ৯ ঘণ্টা আগে

জবিয়ানদের গাউন জড়ানোর স্বপ্ন আর কতদূর?

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করে। এক সময় সে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ পাড়ি দেয়। এই জন্য তাকে দীর্ঘ ১২ বছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে উত্তীর্ণ হতে হয়। বাংলাদেশে মানুষের স্বাক্ষরতার হার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু শিক্ষার মান কতটুকু উন্নতি লাভ করেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেলেও সুশিক্ষিত লোক পাওয়া মুশকিল। এখানে প্রচলিত ধারায় লেখাপড়া করানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটি উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা এবং গবেষণার মাধ্যমে একাডেমিক ডিগ্রি (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) প্রদান করা হয়। এটি এমন একটি স্থান যেখানে জ্ঞান সৃষ্টি, চর্চা এবং সঞ্চালনের কাজ করা হয়, এবং এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি সম্প্রদায় হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক পরিচালিত ও অনুমোদন প্রাপ্য। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, কতগুলো সুযোগ সুবিধা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হয়। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ছোট্ট ক্যাম্পাস, হলবিহীন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে পুরান ঢাকার মেসে খাপ খাইয়ে পড়াশোনা করা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ২২ বছরে পদার্পণ করলেও মাত্র একবার সমাবর্তন অনুষ্ঠান হয়েছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।

আর সমাবর্তন হলো একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান, যা সর্বোচ্চ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষার্থীদের মূল সনদপত্র প্রদান এবং শিক্ষা জীবনের অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আয়োজিত হয়। এটি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পর একত্রিত হওয়ার একটি আবেগঘন ও আনন্দময় ঘটনা। প্রাচীনকালে শিক্ষার্থীদের পাঠ শেষে পাঠশালা থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হতো তাকে সমাবর্তন বলা হতো। কিন্তু বর্তমানে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ শিক্ষা সমাপ্তি এবং একটি ডিগ্রির স্বীকৃতিস্বরূপ আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান, যেখানে মূল সনদপত্র প্রদান করা হয়। আর সমাবর্তনে শিক্ষার্থীরা কালো গাউন, হুড এবং চারকোণা টুপি পরিধান করে, যা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনের প্রতীক। সবচেয়ে মজার মুহূর্ত হচ্ছে গাউন পরে খোলা আকাশে টুপি উড়ানোর দৃশ্য। এছাড়া দীর্ঘদিন শেষে ক্যাম্পাসের বন্ধু বান্ধব, সিনিয়র, জুনিয়র সকলের মিলনমেলা। তাই সমাবর্তন অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক বিজয়কে তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ভরে যায়। সবাই তাদের পুরাতন স্মৃতিচারণ করে। তখন অনেকে কর্মজীবনে প্রবেশ করে। আবার কেউ কেউ স্ত্রী সন্তান নিয়ে আসে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম ও সর্বশেষ সমাবর্তন হয়েছিল ১১ জানুয়ারি ২০২০ সালে। ফলে প্রায় ২০,০০০ সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী একটি আনুষ্ঠানিক সমাবর্তনের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষায় আছেন। এতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আজ কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিদায়ের সেই বিশেষ মুহূর্তটি তারা পাননি। পুরান ঢাকার মূল ক্যাম্পাসের সংকীর্ণতা জবির বড় একটি সমস্যা। প্রথম সমাবর্তন ধূপখোলা মাঠে হলেও, দ্বিতীয় সমাবর্তনটি কেরানীগঞ্জের নতুন (স্থায়ী) ক্যাম্পাসে করা প্রয়োজন। ফলে সাবেক শিক্ষার্থীরা নতুন নির্মাণাধীন ক্যাম্পাসে সমাবর্তন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবে। পক্ষান্তরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতি দৃশ্যমান দেখতে পাবে। প্রতি বছর না হলেও অন্তত নিয়মিত বিরতিতে সমাবর্তন আয়োজন করা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির অংশ। এটি শুধু অনুষ্ঠান নয়, বরং সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যম।

তবে প্রায়ই সমাবর্তনের আশ্বাস পেলেও তা অনুষ্ঠিত হয় না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কেবল আশ্বাস বা পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত মহামান্য রাষ্ট্রপতির (আচার্য) শিডিউল নিয়ে তারিখ চূড়ান্ত করার আহ্বান জানাতে হবে। সবচেয়ে ভালো চমক হতে পারে আগামী ২০ অক্টোবরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম দিবসে আয়োজন করলে। এতে বর্তমান শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করতে পারবে। পরবর্তী দিবে কেরানীগঞ্জ ক্যাম্পাসে সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। তাই কেরানীগঞ্জের নতুন ক্যাম্পাসকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে সেখানে একটি ঐতিহাসিক আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। আর অনুষ্ঠান কিভাবে আরো সৌন্দর্য মন্ডিত করা যায় সে ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়