reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২ ঘণ্টা আগে

রোনালদোর জোড়া গোলে পর্তুগালের দাপুটে জয়

হিউস্টনে দারুণ এক রাত কাটাল রোনালদো ও পর্তুগাল। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় সেলেকাওরা।

প্রথম কয়েক মিনিটেই উজবেকিস্তানের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। ষষ্ঠ মিনিটে নুনো মেন্দেসের তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনালদো।

এই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েন পর্তুগাল অধিনায়ক। ৬ ও ৩৯ মিনিটে গোল করেন রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে অন্য দুটি গোল রাফায়েল লিয়াও (৮৭ মিনিট) ও নুনো মেন্দেজের (১৭ মিনিট)।

৬০ মিনিটে উজবেকিস্তান ডিফেন্ডার নেমাতভ আত্মঘাতী গোল করেন।

রোনালদোর জন্য এই ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১–১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে ভীষণ নিষ্প্রভ ছিলেন কিংবদন্তি।

চারপাশ থেকে ধেয়ে এসেছিল সমালোচনা। জোড়া গোলে দারুণ জবাব দিলেন!

শুধু তাই নয়, ৪১ বছর ৪ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়স্ক গোলদাতার আসনেও উঠে আসেন তিনি। এই তালিকায় তার সামনে আছেন শুধু ক্যামেরুন কিংবদন্তি রজার মিলা। যিনি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে গোল করেছিলেন।

গোলের পরও আক্রমণের গতি কমায়নি পর্তুগাল। ১৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্দেস। প্রথমার্ধজুড়ে উজবেকিস্তানকে চাপে রাখা পর্তুগাল ৩৯ মিনিটে আবারও জালের দেখা পায়। দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো।

উজবেকিস্তান ২৯ মিনিটে একবার বল জালে জড়ালেও ভিএআরের সহায়তায় সেই গোল বাতিল হয়। আক্রমণ শুরুর সময় জোয়াও কানসেলোর ওপর ফাউল হয়েছিল বলে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া পর্তুগাল দ্বিতীয়ার্ধেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। ৫৩ মিনিটে আব্বাসবেক ফয়জুল্লায়েভের শট সহজেই সামাল দেন ডিয়োগো কস্তা। অন্যদিকে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও হ্যাটট্রিকের দেখা পাননি রোনালদো।

৬০ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলায় বল নিজেদের জালে জড়িয়ে ফেলেন উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানোভ। আত্মঘাতী সেই গোলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৪-০।

স্কোরলাইনে পিছিয়ে থাকলেও লড়াই চালিয়ে যায় উজবেকিস্তান। তবে তাদের আক্রমণগুলো বারবার থেমে যায় শেষ মুহূর্তে। অন্যদিকে পর্তুগাল সুযোগ তৈরি করে যেতে থাকে।

শেষদিকে মাঠে নেমেই প্রভাব রাখেন রাফায়েল লিয়াও। ৮৮ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস রক্ষণভাগে লেগে তার সামনে চলে এলে এক ছোঁয়ায় দুর্দান্ত ফিনিশে জালের দেখা পান তিনি।

তাতেই পূর্ণতা পায় পর্তুগালের বড় জয়।যোগ করা সময়ে নুনো মেন্দেস ষষ্ঠ গোলের সুযোগ নষ্ট করলেও তাতে ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি। হ্যাটট্রিকের সুযোগ মিস করেন রোনালদোও।

এই জয়ে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে নকআউট পর্বের আরও কাছে পৌঁছে গেল রবার্তো মার্তিনেজের দল। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল পর্তুগিজরা।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়