কাজী মালিহা আকতার, চট্টগ্রাম কলেজ

  ৮ ঘণ্টা আগে

ফলের খোঁজে চট্টগ্রাম কলেজ উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজন

প্রথমবারের মতো ‘ফল উৎসব’ এর আয়োজন করে চট্টগ্রাম কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ। ফল উৎসব করার প্রথম আইডিয়া প্রদান করেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সমীর কান্তি নাথ। আর এই উৎসবকে বাস্তবে রূপ দেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিয়াজুল হক সোহেল। পাশাপাশি এই উৎসবকে সফল করতে বিভাগীয় প্রধান সুবীর হালদার এবং বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

প্রথমবার হিসেবে বেশ ধুমধাম করে উৎসব পালন হয়েছে। যদিও প্রথম দিকে তেমন একটা আগ্রহ প্রকাশ করেনি শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আমাদের রিয়াজুল হক সোহেল স্যারের দৃঢ় মনোবলের কারণে আমরা সফল একটি উৎসব উদযাপন করতে পেরেছি। স্যার বলেছিলেন, ‘পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থী হলেও আমি তাদেরকে নিয়ে ছোট করে ফল উৎসব করবো। তবে ফল উৎসব হবেই, তোমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নাও।’ আর স্যারের এই মনোবল সত্যিকারেই সেরা একটা প্রোগ্রামে রূপ নিয়েছে।

প্রোগ্রামের দুই সপ্তাহ আগে থেকে এর প্রস্তুতি শুরু হয়। বিভাগের কোন ব্যাচ থেকে কী কী ফল আনবে এবং প্রোগ্রামের ডেকোরেশনের ও প্রদর্শনী আইডিয়া নিয়ে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা শুরু হয়। আর ডেকোরেশনের কাজ শুরু হয় প্রোগ্রামের তিনদিন আগ থেকে। বিভাগের প্রত্যেক ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতায় কাগজ, ককশিট, রঙ দিয়ে বিভিন্ন ফলের আকার বানিয়ে বিভাগকে সাজানো হয়। ডেকোরেশন টিমের লিডার হিসেবে ছিলেন চতুর্থ বর্ষের বর্ষা আপু। ডিসপ্লেতে যেসব ফল দেওয়া হয় সেগুলোর জন্য প্লে-কার্ড বানানো হয়েছিল। যেখানে ফলের আঞ্চলিক নাম, ইংরেজি নাম, বৈজ্ঞানিক নাম, উপকারিতাসহ আকর্ষণীয় কিছু লাইন লেখা হয়েছিল। আর এই প্লে-কার্ডগুলো বানাতে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন মাস্টার্সের শারমিন আপু।

প্রোগ্রামের দিন মেয়েরা শাড়ি আর ছেলেরা পাঞ্জাবিতে উৎসবে অংশগ্রহণ করে। ফলে বিভাগ হয়ে উঠে আরো উৎসব মুখর। ফল উৎসবে প্রায় ৬০ ধরনের ফল প্রদর্শন করা হয়। যেখানে সাধারণ আম, কাঁঠাল থেকে শুরু করে বিরল অনেক ফল যেমন- রক্তগোটা, করমচা, বইচি, কাউফল, রাস্পবেরি, সূর্যমনি কলা, প্যাশন ফ্রুট, পার্সিমন ইত্যাদি ছিল। এছাড়াও আমের ছিল কয়েক রকমের প্রজাতি যেমন- কিং অফ চাকাপাত, থ্রি-ডেইজ, চিয়াংমাই, কিউজাই, আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, বোম্বাই আম, হাড়িভাঙ্গা, বারি-৪, কাটিমন আম। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের ফল দিয়ে একটা ফ্রুটস কেক বানায় বর্ষা আপু, যেটার উপর ছিল সবার নজর।

ফল উৎসব ২০২৬-এর উদ্বোধন হয় প্রায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ শওকত ইকবাল ফারুকী। এছাড়া অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের প্রত্যেক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মহোদয়গণ। উক্ত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফয়েজ উল্লাহ। উপস্থিত সকলে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। উপাধ্যক্ষ স্যার পরবর্তীকাল থেকে এই উৎসব আরো বড় আকারে করার আশ্বাস দেন। অধ্যক্ষ স্যার বিশেষভাবে বিভাগীয় প্রধান ও বিভাগকে ধন্যবাদ জানান এমন একটি উদ্যোগের জন্য। সঙ্গে উপস্থিত সব শিক্ষার্থীদের শপথ করান এই বলে যে, উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রত্যেকে যেন পরিবেশের সুরক্ষা করে এবং এর সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি বিভাগীয় প্রধান সুবীর হালদার। আর এই সুন্দর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আমাদের সোহেল স্যার।

অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে ফল কেটে খান। এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই বিভাগের সিনিয়র জুনিয়রের মেলবন্ধন। সবাই এতো সুন্দরভাবে মিলেমিশে কাজ করেছে যে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা আফসোস প্রকাশ করেছে এই বিভাগের শিক্ষার্থী না হওয়ায়। কাঁঠাল ভাঙতে কেউ রাজি না হওয়ায় চতুর্থ বর্ষের তাসনিম আপু নিজে কাঁঠাল ভেঙে সবাইকে খাওয়ায়। এছাড়া পুরো উৎসব জুড়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে ফল কেটে খাওয়ায় চতুর্থ বর্ষের কৌশিক ভাইয়া।

প্রোগ্রামটি যেমন ছিল অনন্য, তেমনি এটি একটি শিক্ষামূলক কর্মসূচিও বটে। কেননা অনেকে অনেক ফল প্রথবারের মতো দেখতে পেয়েছে। আবার অনেকে ফলের নাম শুনেছে আগে কিন্তু প্রথমবার দেখেছে এই উৎসবে। এছাড়াও ফলের সঙ্গে ফলের বৈজ্ঞানিক নাম ও উপকারিতার প্লে-কার্ড থাকায় সবাই অনেক কিছু নতুন করে জেনেছে ও শিখেছে। সবশেষে ফটোসেশনের মাধ্যমে শেষ হয় আমাদের এই অসম্ভব সুন্দর উৎসবটি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়