নেত্রকোনা প্রতিনিধি

  ৩ ঘণ্টা আগে

কৃষি বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন জিয়াউর রহমান

ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতার পর বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করা হয়। পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি গবেষণা জোরদার এবং উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার উদ্যোগেই দেশে কৃষি বিপ্লবের সূচনা হয় এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায়।

গত বুধবার নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ এবং ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ধান ও চাল রপ্তানির সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাই অর্জন করেনি, বিদেশে চাল রপ্তানির সক্ষমতাও অর্জন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষির আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকাই সরকারের লক্ষ্য নয়; আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। ভবিষ্যতে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, চীন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে ধান ও চাল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রান্তিক কৃষকরা যেন পেট ভরে খেতে পারেন, সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন এবং তাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দিতে পারেন, সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। নিজের জীবনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার বাবা কৃষিকাজ করে আমাকে লেখাপড়া করিয়ে ব্যারিস্টার বানিয়েছিলেন। সেই কারণেই আজ আমি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছি। আমি চাই, এই এলাকার কোনো কৃষকের সন্তান ভবিষ্যতে স্পিকার হোক, রাষ্ট্রপতি হোক।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রমকে অতীতের আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলের সঙ্গে এক কাতারে বিবেচনা করা উচিত নয়। কৃষকবান্ধব নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরো শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নেত্রকোনার উপপরিচালক আমিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া এবং কেবলপুর গ্রামের কৃষক মো. কবির হোসেন।

অনুষ্ঠানের শেষে লেংগুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রায় ৩০০টি নিম, মেহগনি ও পেয়ারা গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একইসঙ্গে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আয়োজন ও বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোনা এবং স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন (এলএসটিডি) প্রকল্প।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়