হৃদয় হাসান, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)

  ০৪ জুলাই, ২০২৬

প্রশ্নের মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

৯ বছর ধরে পাঠদান নেই চলছে বেতন-ভাতা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৯ বছর ধরে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন-ভাতাসহ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার ৪নং বালিজুড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম সুখনগরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১৭ সাল থেকে বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। বছরের অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে নতুন বই বিতরণের জন্য কয়েক দিন বিদ্যালয় খোলা রাখা হয়। বই বিতরণ শেষ হলেই আবার বিদ্যালয়ে তালা ঝুলে। তারা আরো অভিযোগ করেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় পাশের একটি কিন্ডারগার্টেন থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী এনে উপস্থিত দেখানো হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি নথি অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট ৬২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ১২ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৩ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত রয়েছে। তবে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কতজন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে বা কতজন উপবৃত্তি পাচ্ছে- সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গত ২৫, ২৭, ২৮ এবং ৩০ জুন টানা চার কার্যদিবসে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষে তালা ঝুলছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানের কোনো সাইনবোর্ডও চোখে পড়েনি। চার দিনই একই চিত্র দেখা যায়। আশপাশে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের আশপাশে কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থী কমে গেছে। এ ছাড়া সরকার পরিবর্তনের পর বিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইনি। পাকা ভবন না থাকায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।’

বিদ্যালয়টির দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়টির কার্যক্রম নিয়মিত চলছে বলেই আমার কাছে রিপোর্ট রয়েছে। আমি গত সাত মাস ধরে মাদারগঞ্জে কর্মরত থাকলেও এ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয় এখনো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়নি। প্রধান শিক্ষকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বিদ্যালয়টি চালু রয়েছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমি আপনাদের উপজেলায় নতুন এসেছি, এই বিদ্যালয়টি সমন্ধে আমার এটিও বলতে পারবে। তবে আপনাদের মাধ্যমে জানতে যেহেতু পারলাম তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চলমান থাকে, তাহলে একাধিক কার্যদিবসে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা গেল কেন? সরকারি নথিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবে তারা কোথায় পাঠ গ্রহণ করছে- এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়