মাহমুদুল হাসান, রাঙ্গাবালী
রাঙ্গাবালীতে খাস খালে মাছের ঘের নির্মাণ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাউখালী এলাকায় একটি সরকারি খাস খালে বাঁধ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে; বাড়ছে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খালনির্ভর জেলেরা।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও মূল দখলকৃত অংশে এখনো কোনো দৃশ্যমান অভিযান পরিচালিত হয়নি। বরং অন্য একটি বাঁধ উন্মুক্ত করে সেটিকেই প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। এদিকে সংবাদে বক্তব্য দেওয়ার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীরা আরো জানান, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা রাঙ্গাবালী থানায় অভিযোগ দিতেও ভয় পাচ্ছেন। অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে আরো হয়রানি ও সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। সরকারি খাস খাল দখলমুক্ত না হওয়া, ভুক্তভোগীদের হুমকির অভিযোগ এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন সব মিলিয়ে এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, খালটি দখলমুক্ত করা এবং হুমকির অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মানিক মোল্লার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপম মজুমদার বলেন, বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে মাছের ঘেরটি সরকারি খাস খালের ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে, তাহলে তা অপসারণ করে খালটি দখলমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের হুমকির অভিযোগও তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, আপনার মাধ্যমে নজরে এলো বিষয়টি আসলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এমন কেউ উপজেলা প্রশাসন এবং এসিল্যান্ড অফিসে অভিযোগ করেছে কি না এবং অভিযোগ করে থাকলে অবশ্যই আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইব কেন তারা এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়নি।
"





































