সিলেট প্রতিনিধি

  ১৫ অক্টোবর, ২০২১

শাহ আরেফিন টিলা থেকে ২৫০ কোটি টাকার পাথর লুট

ইজারাদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা থেকে ২৫০ কোটি টাকার পাথর লুটের অভিযোগ ওঠেছে। নিষেধাজ্ঞা জারি সত্ত্বেও দীর্ঘদিন থেকে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করে আসছেন কোয়ারির ইজারাদার মেসার্স বশির কোম্পানির স্বত্বাধিকারী উপজেলার কাঁঠালবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ আলী।

গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে ২৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার পাথর লুটের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন। মামলায় মোহাম্মদ আলীকে একমাত্র আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৪ সালের এপ্রিলে শাহ আরেফিন টিলার ৬১ একর ভূমি পাথর উত্তোলনের জন্য ১৩ শর্তে মোহাম্মদ আলীকে ইজারা দেওয়া হয়। তবে ইজারা নেওয়ার পর শর্তভঙ্গ করে পাথর উত্তোলন শুরু করেন মোহাম্মদ আলী। এতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে টিলা থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো।

নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও মোহাম্মদ আলী তা অমান্য করে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। এমনকি ৬১ একর ভূমি ইজারা নিলেও তিনি টিলার পুরো ১৩৭ একর জায়গা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করেন। পাথর উত্তোলনের আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা নেননি এই ইজারাদার।

এজাহারে আরো বলা হয়, সার্বিক বিচারে অবৈধভাবে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ ঘনফুট সরকারি পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করে ২৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা লুট করেছেন মোহাম্মদ আলী। যা দণ্ডবিধি ৪২০/৪০৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পাথর রাজ্য সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১৩৭ দশমিক ৫০ একর আয়তনের শাহ আরেফিন টিলার নিচে রয়েছে বড় বড় পাথর খ-। এসব পাথর উত্তোলন করতে ধ্বংস করেছে সরকারি খাস খতিয়ানের বিশাল এই টিলা। লালচে, বাদামি ও আঠালো মাটির এই টিলার পুরোটা খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য গর্তের।

গত পাঁচ বছরে এই টিলা ধসে অন্তত ২৫ জন পাথর শ্রমিক মারা গেছেন। ২০১৭ সালে পাথর উত্তোলনকালে একসঙ্গে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায়ও এই টিলায় অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়টি আলোচনায় ওঠে আসে। সে সময় জেলা প্রশাসনের তদন্তেও ইজারাদারে অনিয়মের প্রমাণ মেলে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৬৫ একর ভূমি লিজ নিয়ে ১৩৭ একরের পুরো টিলাটি ইজারাদার ধ্বংস করে দিয়েছেন। এরপর ২০১৬ সালে এই টিলা থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close