নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৩০ জুলাই, ২০২১

কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবা

১৩ লাখেরও বেশি রোগীকে রক্তদান

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টামের স্বেচ্ছা রক্তদানের ল্যাব শুরু থেকে ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৮২ ইউনিট রক্ত এবং রক্ত উপাদান দিয়ে মুমূর্ষু মানুষকে সেবা দিয়েছে। গত ৮ জুলাই চার লক্ষাধিক রক্তদাতার মাধ্যমে সেবার এই অঙ্ক অতিক্রম করে। ১৩ লক্ষাধিক মুমূর্ষু মানুষকে সেবা দিতে পেরে সব স্বেচ্ছা রক্তদাতা, স্বেচ্ছাসেবী এবং কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কোয়ান্টাম ল্যাবের কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে দেশের রক্তের চাহিদা মেটাতে নতুন রক্তদাতাদেরও আহ্বান জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী এ প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, চলতি মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৮২ ইউনিট রক্ত ও রক্ত উপাদান দিয়ে মুমূর্ষু মানুষকে সেবা দিতে পেরেছে কোয়ান্টাম। কোয়ান্টামের রয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬০৮ জন স্বেচ্ছা রক্তদাতার ডোনার পুল। এরমধ্যে কমপক্ষে তিনবার রক্তদান করেছেন লাইফ লং ডোনার ৪৭ হাজার ৯৩৫ জন, ১০ বারের রক্তদাতা সিলভার ডোনার ১০ হাজার ৩১৯ জন, ২৫ বারের দাতা গোল্ডেন ডোনার ১ হাজার ৯২৬ জন এবং ৫০ বার রক্ত দিয়েছেন এমন প্লাটিনাম ডোনারের বর্তমান সংখ্যা ৪৬ জন। এ ছাড়াও অনিয়মিত রক্তদাতার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮২ জন।

ল্যাব কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগভেদে একেক রোগীর জন্য রক্তের একেক উপাদান লাগে। যেমন রক্তরস বা প্লাজমা, রক্তকণা বা প্যাকড্ সেল, লোহিত রক্তকণা ইত্যাদি। কোয়ান্টাম ল্যাবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দেওয়া এক ব্যাগ রক্তকে এমন কয়েকটি উপাদানে আলাদা করার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ এক ব্যাগ রক্ত একই সঙ্গে কয়েকজনের প্রয়োজনে ব্যবহার হচ্ছে।

ল্যাব কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, করোনার দুর্যোগ সময়েও কোয়ান্টাম ল্যাবের কর্মীরা তাদের এ সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছেন। প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এরমধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে রক্তের চাহিদা আরো বেড়ে গেছে। গত বছর কোয়ান্টাম ল্যাবে রক্ত ও রক্ত উপাদানের চাহিদা ছিল ৯৭ হাজার ৬১৪ ইউনিট। এর বিপরীতে ল্যাব সরবরাহ করতে পেরেছে ৮৫ হাজার ৩৫৭ ইউনিট। দেশে রক্তের চাহিদা পুরোটা মেটাতে নতুন স্বেচ্ছা রক্তদাতার অংশগ্রহণ আরো বাড়াতে হবে। রক্তের যেহেতু কোনো বিকল্প নেই, তাই স্বেচ্ছা রক্তদানের মাধ্যমেই থ্যালাসেমিয়া রোগী, সন্তানসম্ভবা নারী কিংবা অপারেশনের রোগীকে প্রয়োজনের মুহূর্তে রক্ত সরবরাহ করা সম্ভব।

২০০০ সালে শুরু করে দুই দশকের নিরলস প্রচেষ্টায় চলছে কোয়ান্টাম ল্যাবের এই রক্তদান কার্যক্রম। মুমূর্ষু রোগীকে রক্তদান করলে মেলে মানসিক তৃপ্তি। ধর্মীয় দিক থেকেও এটি অত্যন্ত পুণ্যময় কাজ। রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘ব্যোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। দান করার দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন রক্তকণিকা জন্ম হয়ে এ ঘাটতি পূরণ করে আর বছরে তিনবার রক্তদান রক্তদাতার লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বৃদ্ধি করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত পাঁচটি স্ক্রিনিং টেস্ট যেমন হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইডস এবং ম্যালেরিয়া ইত্যাদির বাধ্যতামূলক পরীক্ষার ফলে ল্যাব থেকে সরবরাহকৃত রক্তের ব্যাপারে গ্রহীতারা খুবই আস্থাশীল।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতারা দুরারোগ্য রোগব্যাধি থেকে প্রায়ই মুক্ত থাকেন। এ ছাড়া নিয়মিত রক্তদাতার হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও থাকে অনেক কম।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close