হাসমত আলী, গাজীপুর

  ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

শখের বশে মাছ শিকার

মাছ শিকারÑ কারো পেশা, কারো শখ, কারো নেশা। যাদের পেশা তাদের বলে জেলে। তারা সারা বছরই মাছ শিকার করে মাছ বিক্রি করায় ব্যস্ত থাকেন। অনেকে মৌসুমি মাছ শিকারি। তাদের মাছ শিকারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার বড়শি। বড়শি দিয়ে তারা বর্ষার মৌসুমে উন্মুক্ত জলাশয়ে এবং অন্য সময় চড়া মূল্যে টিকিট কেটে পুকুরে মাছ শিকার করেন। শখের এই শিকারিরা বলেছেন, বেশির ভাগ সময় টিকিটের দাম ওঠে না। তারা বিভিন্ন স্থানে ছুটে যান মাছ ধরার নেশায় ও সখে। তাদের মতে বড় মাছ ধরার শখই আলাদা।

শৌখিন মাছ শিকারিরা গায়ে পানি লাগাতে চান না। কেউ কেউ প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলে চড়ে আসেন মাছ শিকারে। তারা জলাশয়ের ধারে বসে আবার কেউ কেউ ডিঙি নৌকায় চড়ে জলাশয়ের সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে মাছ শিকার করে থাকেন। অনেকে বেশি মাছ আহরণের জন্য আধার (টোপ) তৈরিতে শত-হাজার টাকাও ব্যয় করেন। মাছ শিকারে ছুটে যান দেশের বিভিন্ন জেলায় ও হাওর-বাঁওড়ে।

------
আমাদের দেশে মাছ শিকারের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। তখন উন্মুক্ত জলাশয় তথা খাল-বিল, নদী-নালা পানিতে ভরা থাকে। সে সময়গুলোতে মাছ শিকারে পেশাদার জেলেদের সঙ্গে যোগ দেন শৌখিন মাছ শিকারিরাও। অন্য সময়গুলোতে শৌখিন মাছ শিকারিরা টিকিট কেটে পুকুরে বা জলাশয়ে মাছ শিকারে অংশ নেন। বিভিন্ন পুকুর বা জলাশয়ে টিকিটে মাছ ধরার উপযুক্ত সময় বিবেচিত হয় অক্টোবর-নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত। এ সময়গুলোতে পুকুর বা জলাশয়ে মালিকরাও এর (মাছ ধরার) অয়োজন করে থাকেন। এ দিনগুলোতে শিকারিদের মধ্যে যেন মাছ ধরার অলিখিত প্রতিযোগিতা চলে। উৎসুক জনতার মাছ ধরা উপভোগ করতে পুকুর বা জলাশয়ে পাড়ে ভিড় জমায়।

গতকাল শনিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিতারকুল এলাকার নিজাম উদ্দিনের পুকুরে টিকিটে মাছ ধরার আয়োজন করা হয়। এতে ২৩ জন শৌখিন শিকারি অংশ নেন। প্রতিটি সিটের টিকিট মূল্য ২ হাজার টাকা। মাছ শিকারিরা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একটি সিটে দুটি বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে পারেন। এখানে মাছ ধরতে আসেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চাননা (চান্দনা) এলাকার আবদুল করিম। তিনি মূলত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণায় ইনস্টিটিউটে চাকরি করেন। তার সঙ্গী একই এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক শামীম মিয়া। মাছ ধরার জন্য তারা ফজরের আজানের পর বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি আনুমানিক ৮ কেজি ওজনের একটি গ্রাসকার্ব ধরেন। তিনি জানান, আধার (টোপ) তৈরিতে তার আরো প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জেলার আশপাশ এলাকা ছাড়াও তারা কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, দিনাজপুর জেলায় টিকিটে মাছ ধরেছেন। অন্য জেলায় মাছ ধরতে গেলে এক দিন আগে বাড়ি থেকে রওনা হন। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, বেশিরভাগ সময়ই খরচের টাকা ওঠে না। আনন্দ উপভোগ করতে মাছ ধরতে যান। আরেকটি সিটের মাছ শিকারি হাজী ফরজুল্লাহ পুকুরে বড়শি ফেলে টং কাঠির দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়েছিলেন। তার বাড়ি সিটি করপোরেশনের হাড়িনাল এলাকায়। পেশায় ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে একই সিটে বড়শি ফেলে বসে আছেন অপর মাছ শিকারি আনোয়ার হোসেন। হাজী ফরজুল্লাহ জানান, মাছ ধরা তার ছোটবেলা থেকেই শখ। এ বছর ৫০টি স্থানে টিকিটে মাছ ধরেছেন। স্থানেভেদে টিকিটের মূল্য ২ থেকে ৫ হাজার টাকা। ফেসবুক, হ্যান্ডবিল, বড়শির দোকান বা সাথী মাছ শিকারদের মাধ্যমে কখন কোথায় টিকিটে মাছ ধরা যায় তা জানতে পারেন। এবার বোয়াল মাছ ধরতে তিনি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের নদীতেও গিয়েছিলেন। তার মতে, বড় সাইজের মাছ শিকারের আনন্দই আলাদা। খরচের হিসাব করলে সে আনন্দ পাওয়া যাবে না।

হাসমত আলী, গাজীপুর

মাছ শিকারÑ কারো পেশা, কারো শখ, কারো নেশা। যাদের পেশা তাদের বলে জেলে। তারা সারা বছরই মাছ শিকার করে মাছ বিক্রি করায় ব্যস্ত থাকেন। অনেকে মৌসুমি মাছ শিকারি। তাদের মাছ শিকারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার বড়শি। বড়শি দিয়ে তারা বর্ষার মৌসুমে উন্মুক্ত জলাশয়ে এবং অন্য সময় চড়া মূল্যে টিকিট কেটে পুকুরে মাছ শিকার করেন। শখের এই শিকারিরা বলেছেন, বেশির ভাগ সময় টিকিটের দাম ওঠে না। তারা বিভিন্ন স্থানে ছুটে যান মাছ ধরার নেশায় ও সখে। তাদের মতে বড় মাছ ধরার শখই আলাদা।

শৌখিন মাছ শিকারিরা গায়ে পানি লাগাতে চান না। কেউ কেউ প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলে চড়ে আসেন মাছ শিকারে। তারা জলাশয়ের ধারে বসে আবার কেউ কেউ ডিঙি নৌকায় চড়ে জলাশয়ের সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে মাছ শিকার করে থাকেন। অনেকে বেশি মাছ আহরণের জন্য আধার (টোপ) তৈরিতে শত-হাজার টাকাও ব্যয় করেন। মাছ শিকারে ছুটে যান দেশের বিভিন্ন জেলায় ও হাওর-বাঁওড়ে।

আমাদের দেশে মাছ শিকারের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। তখন উন্মুক্ত জলাশয় তথা খাল-বিল, নদী-নালা পানিতে ভরা থাকে। সে সময়গুলোতে মাছ শিকারে পেশাদার জেলেদের সঙ্গে যোগ দেন শৌখিন মাছ শিকারিরাও। অন্য সময়গুলোতে শৌখিন মাছ শিকারিরা টিকিট কেটে পুকুরে বা জলাশয়ে মাছ শিকারে অংশ নেন। বিভিন্ন পুকুর বা জলাশয়ে টিকিটে মাছ ধরার উপযুক্ত সময় বিবেচিত হয় অক্টোবর-নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত। এ সময়গুলোতে পুকুর বা জলাশয়ে মালিকরাও এর (মাছ ধরার) অয়োজন করে থাকেন। এ দিনগুলোতে শিকারিদের মধ্যে যেন মাছ ধরার অলিখিত প্রতিযোগিতা চলে। উৎসুক জনতার মাছ ধরা উপভোগ করতে পুকুর বা জলাশয়ে পাড়ে ভিড় জমায়।

গতকাল শনিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিতারকুল এলাকার নিজাম উদ্দিনের পুকুরে টিকিটে মাছ ধরার আয়োজন করা হয়। এতে ২৩ জন শৌখিন শিকারি অংশ নেন। প্রতিটি সিটের টিকিট মূল্য ২ হাজার টাকা। মাছ শিকারিরা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একটি সিটে দুটি বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে পারেন। এখানে মাছ ধরতে আসেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চাননা (চান্দনা) এলাকার আবদুল করিম। তিনি মূলত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণায় ইনস্টিটিউটে চাকরি করেন। তার সঙ্গী একই এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক শামীম মিয়া। মাছ ধরার জন্য তারা ফজরের আজানের পর বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি আনুমানিক ৮ কেজি ওজনের একটি গ্রাসকার্ব ধরেন। তিনি জানান, আধার (টোপ) তৈরিতে তার আরো প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জেলার আশপাশ এলাকা ছাড়াও তারা কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, দিনাজপুর জেলায় টিকিটে মাছ ধরেছেন। অন্য জেলায় মাছ ধরতে গেলে এক দিন আগে বাড়ি থেকে রওনা হন। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, বেশিরভাগ সময়ই খরচের টাকা ওঠে না। আনন্দ উপভোগ করতে মাছ ধরতে যান। আরেকটি সিটের মাছ শিকারি হাজী ফরজুল্লাহ পুকুরে বড়শি ফেলে টং কাঠির দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়েছিলেন। তার বাড়ি সিটি করপোরেশনের হাড়িনাল এলাকায়। পেশায় ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে একই সিটে বড়শি ফেলে বসে আছেন অপর মাছ শিকারি আনোয়ার হোসেন। হাজী ফরজুল্লাহ জানান, মাছ ধরা তার ছোটবেলা থেকেই শখ। এ বছর ৫০টি স্থানে টিকিটে মাছ ধরেছেন। স্থানেভেদে টিকিটের মূল্য ২ থেকে ৫ হাজার টাকা। ফেসবুক, হ্যান্ডবিল, বড়শির দোকান বা সাথী মাছ শিকারদের মাধ্যমে কখন কোথায় টিকিটে মাছ ধরা যায় তা জানতে পারেন। এবার বোয়াল মাছ ধরতে তিনি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের নদীতেও গিয়েছিলেন। তার মতে, বড় সাইজের মাছ শিকারের আনন্দই আলাদা। খরচের হিসাব করলে সে আনন্দ পাওয়া যাবে না।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close