রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি

সাহেদ ও স্বাস্থ্যের চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার (কোভিড-১৯) নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসার জন্য চুক্তি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার পরও করোনার নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় খরচ বাবদ ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী মামলাটি করেন। জানিয়েছেন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। মামলায় সাহেদ ছাড়াও অপর আসামিরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদফতর সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলাম। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, ‘অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তাদের আসামি করা হয়েছে।’

রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে করোনার পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, সরকারের কাছে বিল দেওয়ার পর আবার রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নেওয়াসহ নানা অনিয়মের খবর পায় র‌্যাব। এ অভিযোগে গত ৭ ও ৮ জুলাই অভিযান চালিয়ে রিজেন্টের মিরপুর ও উত্তরা শাখা বন্ধ করে দেয়। হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদও ছিল না। পরে ওই হাসপাতালের অনুমোদন বাতিল করে স্বাস্থ্য বিভাগ।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় গত ২১ মার্চ রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের চুক্তি হয়। ওই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ কয়েকজন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

বিতর্কিত রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়ে সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্য অধিদফতর গত ১১ জুলাই দাবি করে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের’ নির্দেশে ওই চুক্তি করা হয়েছিল। পরে অধিদফতরের ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চায় মন্ত্রণালয়। তবে ওই চুক্তি নিয়ে সমালোচিত হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদকে আসামি করেনি দুদক।

এ প্রসঙ্গে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, ‘অনুসন্ধান কর্মকর্তা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সরাসরি প্রমাণ পেয়েছেন তাদের আসামি করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, তদন্তে যদি আরো কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাদেরও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং সম্পাদন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করিয়েছেন।

‘যেখান থেকে অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগী প্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা হিসেবে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দ বাবদ ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে নেওয়া হয়েছে।’

 

 

"