রংপুরে ‘জাল দলিলে’ জমি দখলের চেষ্টা

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

রংপুর ব্যুরো

রংপুরে অসহায় দুই কৃষকের পৈতৃক জমি জাল জলিলের মাধ্যমে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে ভূমিদস্যুরা। ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। এ ঘটনায় মহানগরীর আরপিএমপি বিভাগীয় সরকারি কর্মকর্তা গৃহায়ন সমবায় সমিতি সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার শিকদার ও দালাল আবুল ফজল রিজভী, সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র বর্মা এবং উত্তম বাওয়াইপাড়ার মোফাজ্জল হোসেনকে অভিযুক্ত করে ওই দুই কৃষকের পক্ষে গোলাম রব্বানী বাদী হয়ে জমি দখল চেষ্টার মামলা করেন। মামলায় জাল দলিল তৈরি ও অন্যের হোল্ডিং ব্যবহার করে ভুয়া খারিজের মাধ্যমে অবৈধভাবে জমি দখলে চেষ্টা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে প্রায় ১২ একর জমি ক্রয় করে ওই সমিতি। অত্র মামলার বাদীর পৈতৃক জমিও কেনার প্রস্তাব দিলে বিক্রিতে রাজি না হলে ক্ষুব্ধ হয় চক্রটি। গত ৩ মার্চ জমি অবৈধ দখলে নিতে না পেরে বাদীর ওই জমিতে থাকা ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় হাজিরহাট থানায় অভিযোগ করলেও কোনো কাজে আসেনি। সমিতির ম্যানেজার মশিউর, আবুল ফজল রিজভী, রাসেলসহ অজ্ঞাতদের যোগসাজসে জয়ন্ত কুমার শিকদারের কাছে ওই জমি বিক্রি করে। শিকদার আবার সেই জমি সমিতির কাছে বিক্রি করেন। পরে জমিতে মাটি ফেলতে শুরু করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা বন্ধ হয়। এ ব্যাপারে ম্যানেজার মশিউর বলেন, আমার সঙ্গে অসংখ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোক আছেন, সংবাদ করে কোনো লাভ হবে না। অভিযুক্ত রিজভীকে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ফোন করলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ ব্যাপারে গৃহায়ন সমিতির সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র বর্র্মা বলেন, ‘আমি তো এই সমিতিতে যেতে আগ্রহী ছিলাম না। তারপরও আমাকে সভাপতি করেছে। স্থানীয় ২ কৃষকের জমি সমিতির সাধারণ সম্পাদক কিনে আবার তা সমিতির নামে লিখে দেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। আমি জয়ন্তকে বিষয়টি দেখার জন্য বলব।’

আরপিএমপি হাজিরহাট থানার সাব ইন্সপেক্টর ইয়াছিন খান জানান, আদালত থেকে ওই ৭০.৩৩ শতক জমির ওপর ১৪৪ ধারার আদেশ মতে উভয়পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিস করেছি।

অন্যদিকে, মোজাহারুল হকের ছেলে কৃষক মোখলেছার এডিএম কোর্টে ১৪৪ ধারার আবেদন করলে স্থানীয় তহসিলদার মেসবাহ প্রতিবেদনে লিখেন যে, ওই বিরোধীয় সম্পত্তি কারই দখলে নাই। তিনি আরো বলেন, আমি ওই বিরোধীয় জমিতে গিয়ে গাছ, চালা ঘর ও বাঁশের বেড়াটাটি দেখেছি। পরবর্তীতে মামলা হওয়ায় উত্তম ভূমি অফিস উভয় পক্ষের খাজনা নেওয়া বন্ধ রেখেছি ।

জয়ন্ত কুমার শিকদার বলেন, আবুল ফজল রিজভী ওই জমির কাগজপত্র সব ঠিক করেন, আর আমি শুধু রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছি। জমি কেনার বিষয়ে কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তো তারা মামলা করতেই পারেন। আমরা মামলায় দেখব। মশিউর রহমান, কামাল মো. রাসেল, মাহফুজার রহমান লাভলু ও আবুল ফজল রিজভীকে জমি কেনার ব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া আছে।

মাহফুজার রহমান লাভলু জানান, জয়ন্ত কুমার শিকদার স্যারের জমি কেনা-বেচার বিষয়ে আমিসহ রাসেল, মশিউর জড়িত না। যদি স্যার বলে থাকেন তো কি আর বলার।

অসহায় ওই ২ কৃষক রংপুরের সর্বস্তরের প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সরকার প্রধানের কাছে ন্যায় বিচারের আকুতি করেছেন।

 

 

"