আফ্রিকার বন্যপ্রাণীরা শিকারের ঝুঁকিতে

করোনার বিরূপ প্রভাব

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের বনাঞ্চল মালা মালা। করোনার বিস্তারের কারণে দেশটিতে লকডাউন দেওয়া হলে সেখানে পর্যটকদের আনাগোনাও কমে যায়। তাতে শুধু স্থানীয় অধিবাসীই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, বনের প্রাণীরাও শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। সারাটা দিন ধরেই টহল দিয়ে যাচ্ছেন বনরক্ষীরা। এরা মালা মালার ফিল্ড রেঞ্জার। লকডাউনের শুরু থেকেই তারা বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা দিতে এমনকি জঙ্গলেও লুকিয়ে ছিলেন, শিকারিদের হাত থেকে বনের পশুদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের বনাঞ্চল মালা মালা হলো বিশেষ সাফারি এলাকা। প্রতি বছর হাজারো পর্যটক আসেন এখানে। তবে লকডাউনের পর থেকে মানুষের আনাগোনা ছিল না। আর এই সুযোগ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকেন সংঘবদ্ধ শিকারিরা। মহামারির কারণে যেসব প্রাণীর মাংস খাওয়া হয় তারাও বেশ ঝুঁকিতে। মালা মালা হলো দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে গরিব এলাকার একটি। রেঞ্জাররা আশপাশের গ্রামগুলো নিয়ে বেশি চিন্তিত। ‘মহামারির কারণে অনেক মানুষের কাজ নেই। তাদের টাকাও নেই, তারা ক্ষুধার্ত। আমাদের আশঙ্কা, তারা জঙ্গলে ঢুকে মাংসের জন্য প্রাণী হত্যা করতে পারে,’

বলেন ফিল্ড রেঞ্জার উবিসি।

প্রাণীরাও বুঝতে পারে যে কিছু নিশ্চয়ই বদলেছে। গাড়ি ও পর্যটকদের শব্দ নেই। অনেক প্রাণী লোকালয়ের লজ্জা ভেঙে ক্যাম্পের আরো কাছে চলে আসে। মালা মালা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিচালক ভুসি এমপান্জডা। লকডাউনের পর তিনি প্রধান তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বও পালন করতে থাকেন। ক্যাম্পে তিনি রেঞ্জারদের প্রাণীদের চলাফেরা সম্পর্কে অবহিত করেন।

স্থানীয় জনগণের দাবির মুখে সরকার ২০১৩ সালে জঙ্গলটি ব্যক্তি মালিকানা থেকে কিনে নেয়। এরপর তা স্থানীয় বাসিন্দাদের ফিরিয়ে দেয়। এ এলাকায় এখন ১১টি কমিউনিটি বসবাস করে। মালা মালা অপারেটিং কোম্পানিতে তাদের মালিকানাও আছে। এই কোম্পানি শহর কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দেয়। আর এখানকার মানুষকে দেয় প্রশিক্ষণ।

সংরক্ষিত বনটিতে ১৮০ জন কর্মী রয়েছেন, যাদের অনেকেই এই এলাকার বাসিন্দা। তবে লকডাউনের কারণে কর্মী চাহিদাও কমে যায়। কমে যায় আয়। এদের বেশিরভাগকেই ঘরে ফিরে যেতে হয়।

‘এমনটা কত দিন চলবে তা কেউ জানে না। তাদের ক্ষেত্রেও তাই। তারা এতটাই বিচলিত যে, পরে কাজে নাও ফিরতে পারেন। ক্যাম্পে যারা আছেন তাদের জন্য তো বিষয়টি আরো খারাপ। যদি কোম্পানি ঠিকমতো চলতে না পারে, তাহলে হয়তো বন্ধই হয়ে যাবে। নিজেদের সবার তো বটেই, কতগুলো পরিবারের খাবারের জোগান দেই আমরা,’ বলেন ভুসি এমপান্ডজা। ভুসি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতিদিন অনলাইনে যোগাযোগ রাখেন। তারা জরুরি তহবিল তৈরির চেষ্টা করেছেন। সরকার থেকে তাদের কর্মচারীরা কিছু কিছু বেকারভাতাও পেয়েছেন যাতে খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারেন। ভুসি এমপান্ডজা ও রেঞ্জার লুকি মাকুকুলা গ্রামে হাইজিন পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন।

 

"